গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু দারিদ্র বিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বাপার্ড) বদলে যাচ্ছে। এখানে বাংলাদেশর প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ সাধারণ মানুষ প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে। প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে।
২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ নির্বাচনী এলাকা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বঙ্গবন্ধু দারিদ্র বিমোচন প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্সের কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর এ কমপ্লেক্সের প্রতি বিমাতা সুলভ আচরণ করা হয়। সে সময়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে প্রতিষ্ঠানটি চলতে থাকে। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর এ প্রতিষ্ঠানে পুরোদমে প্রশিক্ষণ শুরু হয়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার হাজার হাজার প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করেছে। লভ্য জ্ঞান কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করে আত্মনির্ভরশীল হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সহ সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে বাপার্ড সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছেন। আর এ কারণেই বদলে যাচ্ছে এ প্রতিষ্ঠানটি।
গোপালগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এ.কে ফজলুল হক জানান, এলজিইডি বঙ্গবন্ধু দারিদ্র বিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমীতে (বাপার্ড) ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ তলা একাডেমি ভবন ও ১০ তলা হোস্টেল ভবনের নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে। এ কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। এছাড়া ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে অফিসার্স কোয়ার্টার এবং স্টাফ কোয়ার্টারের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। একাডেমিক ভবনের বেজমেন্টসহ ফ্লোর এরিয়া দুই লাখ ৭২ হাজার বর্গফুট। এখানে ৭৬টি কার পার্কিং এর সুবিধা, চিকিৎসা কেন্দ্র, বিনোদন কেন্দ্র, ক্যাফেটেরিয়া, পুরুষ ও মহিলাদের পৃথক নামাজের স্থানসহ সুবিশাল গবেষণাগার থাকবে। হোস্টেল ভবনের বেজমেন্টসহ ফ্লোর এরিয়া দুই লাখ ৫২ হাজার বর্গ ফুট। এখানে ৪৫টি কার পার্কিংসহ ওয়ার্কশপ, ক্যান্টিন, ভিআইপিদের বিনোদন, পুরুষ মহিলাদের পৃথক নামাজের স্থানসহ ২৮২ জনের আবাসিক সুবিধা থাকবে। ১০ তলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট ৬ তলা অফিসার্স কোয়ার্টারে ২২শ বর্গ ফুটের মোট ২৪টি ফ্লাট থাকবে। এছাড়া ৬ তলা স্টাফ কোয়ার্টারে ১৩৫০ বর্গ ফুটের ১২টি ফ্লাটের সুবিধা থাকবে।
কোটালীপাড়া উপজেলার মাঝবাড়ি গ্রামের রাসেল শেখের স্ত্রী খাদিজা আক্তার, শুয়াগ্রামের নিদান বাড়ৈর স্ত্রী লিপিকা বাড়ৈ, ডহরপাড়া গ্রামের কালু দাসের স্ত্রী চুমকি দাস বলেন, এ কমপ্লেক্স থেকে সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে আমরা দর্জি কাজ করে সংসারের আয় বাড়িয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবন্ধী সহ আমাদের মতো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধু দারিদ্র বিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর (বাপার্ড) সম্প্রসারণ করছেন। এতে আরো বেশি প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। মানুষ এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দেশের দরিদ্রতা হ্রাস করবে। প্রধানমন্ত্রীর ২০৪১ সালের রূপকল্প বাস্তবায়িত হবে।
বাপার্ড মহা-পরিচালক মো. আবু সাইদ ফকির বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ অত্র অঞ্চলের সাধারণ মানুষ প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাতে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর দরিদ্রতা হ্রাস পাবে। দারিদ্রসীমা আরো নিচে নেমে আসবে। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশের কাতারে দাঁড়াবে।
ইত্তেফাক/জামান
