মিয়ানমারে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত অঞ্চলে সহিংসতা, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড এবং জোরপূর্বক উচ্ছেদের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এতদিন বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সহায়তা করার বিষয় জানালেও এবার এই ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে এক বিবৃতি দিয়েছে সংস্থাটি। এর আগে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল। এবার উদ্বেগ জানালো বিশ্বব্যাংক।
সংস্থাটির ওয়েব সাইটে দেওয়া বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান হিসাবে আমাদের মৌলিক নীতি হলো অসাম্য দূর করা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করা। এ জন্য আমরা রোহিঙ্গাদের প্রতি সহিংসতা, ধ্বংসাত্বক কর্মকাণ্ড এবং জোরপূর্বক উচ্ছেদের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানাচ্ছি। এ ধরনের সংকটকালীন পরিস্থিতিতে মিয়ানমারে বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুতায়ন, গ্রামীণ সড়ক এবং সকল ধর্মীয় জাতি-গোষ্ঠীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রকল্পগুলো নিয়ে আমরা পর্যালোচনা করছি। আমরা জাতিসংঘ এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছি। তাদের সাথে একজোট হয়ে মিয়ানমার সরকারকে এই পরিস্থিতি উন্নতির জন্য তাগিদ দিয়ে আসছি। সেইসাথে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুৎ জনগোষ্ঠীকে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কথা বলছি।
সম্প্রতি ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে উচ্চ পর্যায়ে বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের কাছে আনুষ্ঠানিক সহায়তা চেয়েছেন। চলমান পরিস্থিতিতে বাংলাদশের সরকার, উদ্বাস্তু ও স্থানীয় পর্যায়ে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। এজন্য প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা গ্রহণ করতে হবে।
সম্প্রতি অর্থনীতির হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশকালে ঢাকা কার্যালয়ে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে বলেছিলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শরণার্থীদের সহায়তা দিতে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (আইডা) ‘রিফিউজি ফান্ড’ নামে একটি তহবিল রয়েছে। আইডা-১৮ লোন প্যাকেজের আওতায় ৩ বছরের জন্য এই খাতে দুইশ কোটি ডলার বরাদ্দ রয়েছে। যেকোন একটি দেশ সর্বোচ্চ ৪০ কোটি ডলার এই তহবিল হতে গ্রহণ করতে পারে। এজন্য বাংলাদেশ সরকারকে প্রকল্প প্রস্তাবনার মাধ্যমে অর্থ চাইতে হবে। বিশ্বব্যাংকের এই তহবিলের একটি বড় অংশ অনুদান থাকতে পারে।
ইত্তেফাক/এমআই
