খুলনা সরকারি করোনেশন বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী শামসুন নাহার চাঁদনী (১২)। প্রতিবেশী বখাটে পাইপ মিস্ত্রি শুভ’র (২২) উত্পাত ও অপমানে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে সে। গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে নগরীর হরিণটানা এলাকার নিজ বাড়িতে চাঁদনী আত্মহত্যা করে।
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় জিপিএ-ফাইভ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিল। চাঁদনী সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট রবিউল ইসলামের মেয়ে। সে দু’বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে ছোট।
এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্র জানায়, চাঁদনীরা হরিণটানা প্রাইমারি স্কুলের পাশে নিজ বাড়িতে থাকত। তাদের প্রতিবেশী সেনিটারি মিস্ত্রি শাহ আলমের ছেলে পাইপমিস্ত্রি শুভ এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত। বখাটে শুভ চাঁদনীকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে দলবলসহ উত্ত্যক্ত করত। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শুভ তার পিতা শাহ আলম, কথিত ঘটক মাফিয়া কবির ও ৭/৮জন সহযোগীকে নিয়ে চাঁদনীদের বাসায় যায়। এ সময় চাঁদনীর পিতা রবিউল ইসলামের কাছে তারা শুভর সঙ্গে চাঁদনির বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এ সময় রবিউল মেয়ের বাল্য বিয়ে দিতে অস্বীকার করেন। এ নিয়ে তার সঙ্গে শুভর পক্ষের লোকজনদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তারা চাঁদনীর বাবাকে মারধর করে। এ সময় ঘটক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেত্রী মাফিয়া চাঁদনীকে চড় মারেন। চড় খেয়ে ক্ষুব্ধ চাঁদনী পাশের রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়।
পরে শুভ, তার পিতা ও মাফিয়াসহ বখাটেরা চাঁদনিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়। বলে, এর পরিণাম ভালো হবে না। এ ঘটনার পর রাত ১০টার দিকে বাড়ির লোকজন চাঁদনির খোঁজ নিতে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পায়। অনেক ডাকাডাকি করেও সে দরজা না খোলায় দরজা ভেঙ্গে তাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে।
খবর পেয়ে রাত ১টার দিকে পুলিশ নিহত চাঁদনীর লাশ উদ্ধার করে। চাঁদনীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বখাটে শুভর পরিবার ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়। বখাটে শুভর সহযোগী মাফিয়াও আত্মগোপন করেছে।
চাঁদনীর পিতা রবিউল ইসলাম বলেন, আমার মেয়ে যাদের জন্য আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
আত্মহননকারী চাঁদনীর প্রতিবেশী আব্দুল মান্নান বলেন, রবিউল ইসলামের পরিবারটি অত্যন্ত ভদ্র । তাদের সঙ্গে কারো কোনো বিরোধ নেই। চাঁদনির ব্যবহারও ছিল ভালো। তাকে বখাটের উত্পাতে এভাবে আত্মহত্যা করতে হবে তা আমরা কল্পনাও করিনি।
স্থানীয় জলমা ইউপি মেম্বার শহীদুল ইসলাম লিটন বলেন, শুভর উত্পাতের বিষয়ে তিনি কয়েকদিন আগেই জেনেছিলেন।
এ ব্যাপারে লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, চাঁদনীর মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে গতকাল শনিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি। তবে দোষীদের আটক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ইত্তেফাক/নূহু
