দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাব আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে শেরপুর সদর উপজেলার ছোট ঝাউয়ের চর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে। দোচালা টিনশেডের প্রকল্পটির টিনের চাল ও বেড়ায় জং ধরে ফুটো হয়ে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। অবকাঠামোর খুঁটি ভেঙে একচালা ঘরে পরিণত হয়েছে। শুরুতে ৫০টি পরিবারের বসবাসের উপযোগী এ প্রকল্পে চারটি শৌচাগার ও চারটি নলকূপ নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে একটি শৌচাগার ও একটি নলকূপ ব্যবহারের উপযোগী রয়েছে। এ প্রকল্পে বসবাসকারী ভূমিহীন ৫০টি পরিবারের স্থায়ী আয়ের উত্স হিসেবে দুই একর আয়তনের একটি পুকুর কাটা হয়। যেখানে মাছ চাষ করে তারা যাতে আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন। কিন্তু নিয়মিত পরিচর্যা ও পাড় সংরক্ষণ না করায় সাম্প্রতিক বন্যায় পুকুরের পাড় ভেঙে সব মাছ ভেসে গেছে। সেইসঙ্গে পুকুরটি ডোবার আকার ধারণ করেছে।
বসবাসের অনুপযোগী আশ্রয়ণ প্রকল্পের বর্তমান সভাপতি মোঃ খোকা মিয়া জানান, এখানে ৫০টি ভূমিহীন পরিবারের ২৫০ জন সদস্য বসবাস করেন। এখানে যারা বাস করেন তাদের অধিকাংশই দিনমজুর, ক্ষেতমজুর, রিকশাওয়ালা ও ভ্যানচালক। বহু আবেদন-নিবেদনের পরও দীর্ঘদিন ধরে তাদের বসতঘর মেরামত করা হচ্ছে না। বর্তমানে আড়াইশ’ লোক একটিমাত্র শৌচাগার ও একটি নলকূপের ওপর নির্ভরশীল। সংশ্লিষ্ট লছমনপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, এ প্রকল্পে কোনো প্রাথমিক শিক্ষার পাঠশালা নেই। শিক্ষার জন্য দুই/তিন মাইল দূরবর্তী স্থানে কোমলমতি ছেলে-মেয়েদের পাঠাতে হয়। দূরত্বের কারণে অনেক ছেলে-মেয়েই স্কুলে যেতে চায় না।
লছমনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম মিয়া জানান, সাবেক চেয়ারম্যানের আমলে আশ্রয়ণ প্রকল্পে একটি খুনের ঘটনা ঘটে। ফলে তখন ভয়ে অনেকেই পালিয়ে যায়। অনেকদিন এটা প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। পরে অন্য ভূমিহীন লোকজন এখানে আশ্রয় নেয়। এদের মধ্যে নিজেদের বাড়িঘর রয়েছে এমন প্রভাবশালী লোকও আশ্রয় নিয়েছে বলে তিনি জানান। শেরপুর সদর উপজেলারর নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, প্রকল্পটি সংস্কারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ আবেদন করা হয়েছে। মঞ্জুর হয়ে এলেই কাজ শুরু করা হবে। প্রকল্পের বর্তমান বাসিন্দাদের বিষয়ে তিনি জানান, যাচাই-বাছাই করে ভূমিহীনদের নতুন তালিকা তৈরি করে প্রকল্পে আশ্রয় দেয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
