নামমাত্র কাজ করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৭, ০০:৩৯

বরিশাল সওজ কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে আগৈলঝাড়া-গোপালগঞ্জ-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়ক সংস্কারে বরাদ্দ ১ কোটি ৪ লাখ টাকা নামমাত্র কাজ করে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে।

বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের বিড়ম্বনার হাত থেকে বাঁচাতে সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে খানাখন্দে ভরা গৌরনদী-আগৈলঝাড়া-গোপালগঞ্জ-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস থেকে পয়সারহাট পর্যন্ত বরিশাল অংশের ১১ কি.মি সড়ক সওজ বিভাগ ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের আওতায় সংস্কারের জন্য দুটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এর মধ্যে আগৈলঝাড়া বাইপাস রোড থেকে পশ্চিমে চার কি.মি সংস্কার কাজ বাস্তবায়নের জন্য মেসার্স সান্টু ট্রেডার্স এর মালিক আলাউদ্দিন ভুঁইয়াকে ৩৮ লাখ টাকা এবং ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সেরনিয়াবাত ট্রেডার্স এর মালিক কাজল সেরনিয়াবাতকে বাইপাসের শেষ মাথা থেকে পয়সারহাট বরিশাল অংশের সাত কি.মি সড়ক সংস্কারের কার্যাদেশ দেওয়া হয় গত মে মাসে।

৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সেরনিয়াবাত ট্রেডার্স এর কাজটি বাস্তবায়ন করেন স্থানীয় ঠিকাদার আবু হানিফ সরদার। তবে উভয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নাম কাওয়াস্তে সংস্কার কাজ করে জুন মাসে চূড়ান্ত বিল উত্তোলন করে নেয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরিশাল সওজ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, এই মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস থেকে বরিশাল অংশের পয়সারহাট পর্যন্ত ১১ কি.মি সড়কে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে সিলকোড ও ইট দিয়ে গর্ত ঢেকে কোনরকম মেরামত কাজ করা হয়। কাজ শেষ হতে না হতেই পুনরায় বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে মহাসড়কটি। এ কাজে সরকারের গচ্ছা গেছে ১ কোটি ৪ লাখ টাকা।

উল্লেখিত একমাত্র সড়ক দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়াসহ গোপালগঞ্জ-খুলনা-যশোর-বেনাপোল ও মংলা পোর্ট থেকে দক্ষিণাঞ্চলের পায়রা বন্দরের নির্মাণ সামগ্রী পরিবহন করা হচ্ছ। ফলে এ সড়কে যানবাহন সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এছাড়া পয়সারহাট থেকে ঢাকা ও বরিশাল থেকে খুলনা, যশোর, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ রুটে অসংখ্য দূরপাল্লার বাস চলাচল করেছে। সড়কটির খানাখন্দের কারণে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

সেরনিয়াবাত ট্রেডার্স এর অনুকূলে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদার মো. হানিফ সরদার বলেন, তিনি রাস্তার কাজ করেননি। কাজ করেছে কাজল সেরনিয়াবাত। এদিকে কাজল সেরনিয়াবাতের ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অপর ঠিকাদার মেসার্স সান্টু ট্রেডার্সের মালিক মো. আলাউদ্দিন ভুঁইয়ার ফোনও বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বরিশাল সওজ উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবু হানিফ মিয়া বলেন, বৃষ্টির সময় কাজ করায় অনেক স্থানে নষ্ট হয়েছে। এখন পুনরায় নতুন করে সংস্কার করা হবে।

ইত্তেফাক/নূহু