ঝড়ে বিধ্বস্তের দুই বছরেও সংস্কার হয়নি আশ্রয়ণ প্রকল্প

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৭, ১১:৫২
 
দুই বছর আগে ঝড়ে বিধ্বস্ত ও দুমড়ে-মুচড়ে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও আজো সংস্কার করা হয়নি কাজলা ইউনিয়নের দক্ষিণ টেংরাকুড়া (জামথল) আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৪টি ব্যারাক।
 
ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পে ২২টি ব্যারাক নির্মাণ করে ১১০টি পরিবারকে বসবাসের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প বিভাগ থেকে ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে দক্ষিণ টেংরাকুড়া মৌজায় ২০ বিঘা জমির উপর ২২টি ব্যারাক নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পে মাটি ভরাট কাজে ২৫০টন গম ব্যয় হয়। উপজেলা সদর থেকে ১৫/১৬ কিলোমিটার দূরত্বে যমুনার দুর্গম চরে অবস্থিত ওই আশ্রয়ণে গত শনিবার সরেজমিন দেখা গেল প্রকল্পে বসবাসকারী পরিবারগুলোর করুণ চিত্র। নানা সমস্যায় জর্জরিত পরিবারগুলোর অভিযোগের অন্তঃ নেই।
 
সরেজমিন পরিদর্শন এবং বসবাসকারী লোকজনের সাথে কথা বলে মনে হয় আশ্রয়ণ প্রকল্পটি অভিভাবকহীন। দক্ষিণ পশ্চিম কোণে একটি ব্যারাকের কয়েটি কক্ষ মাটি ধসে বিধ্বস্ত হয়েছে। ওই  বিধ্বস্ত কক্ষের পাশের একটি কক্ষে পরিবার নিয়ে বাস করেন আতাউর রহমান। তিনি পাশের চর থেকে এক বছর আগে এখানে এসে বসবাস করছেন। তিনি বরাদ্দ পাননি। অন্যের বরাদ্দকৃত কক্ষে বাস করছেন। ব্যারাক নম্বর কক্ষ নম্বর কত, মালিকের নাম কি তিনি বলতে পারেন না। কোন ব্যারাকের নম্বর নেই। বসবাসকারীরাও ঠিকভাবে বলতে পারেন না।
        
৭ নম্বর ব্যারাকের জলিল শেখ কাঠের ব্যবসা করেন। স্ত্রী ফারজানা আশ্রয়ণের নানা সমস্যার কথা জানালেন। তিনি বলেন, সবাই মনে করে আমরা আশ্রয়ণে খুব ভালো আছি। কেউ তো খবর নিতে অাসে না। সবগুলো নলকূপ নষ্ট। অনেক দূর থেকে খাবার পানি টেনে আনতে হয়। পায়খানা ব্যবহার করা যায়না। ১০ নম্বর ব্যারাকের ছাবজল মিয়া বয়োবৃদ্ধ, কর্মহীন। স্ত্রী মাফুজা জানালেন দুঃখ-কষ্টের কথা। এক মাত্র ছেলে রবিউল (২১) কাঁচা মালের ব্যবসা করে কোনমতে সংসার চালাতো। ৩ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়। এখন সে পুংগু, আয়ের পথ বন্ধ। সংসার চলে আত্মীয়-স্বজন আর পড়শিদের দান খয়রাতে।
 
আট নম্বর ব্যারাকের হাফিজারের স্ত্রী সকিনা বেগম জানান, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যারাকে বরাদ্দ পেয়েছে। কিন্তু সে ব্যারাকে থাকা যায় না। চরের লোকেরা জানান, ২২ টি ব্যারাক নির্মাণের পর এক বছর পড়েছিল। ওই সময় ১৪ টি ব্যাকের চাল ঝড়ে উড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যারাকগুলো  পরে  লোকজনকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। যে ব্যারাকগুলো ভালো রয়েছে তার বেশিরভাগ কক্ষ তালাবদ্ধ দেখা গেল। ওই তালাবদ্ধ কক্ষের লোকজন সচ্ছল এবং প্রভাবশালী। তারা প্রকল্পে বসবাস করেন না। আশ্রয়ণের ২২টি নলকূপের অর্ধেকটা বরাদ্দ দেওয়ার আগেই চুরি হয়ে গেছে, বাকি নলকূপ অকেজো হওয়ায় ব্যবহার করা যায়না। সৌচাগারগুলোও অকেজো এবং অপরিচ্ছন্ন। এমতাবস্থায় আশ্রয়ণের বাসিন্দারা রয়েছে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।
 
পরিবার-পরিকল্পনা বিভাগের মাঠকর্মীরা কখনো সেবা দিতে যায়নি বলে জানালেন আশ্রয়ণের মহিলারা। চিকিৎসা সেবা বলতে পাশের শাহজালাল বাজারে আছেন একজন হাতুড়ে ডাক্তার। সেখানেই চিকিৎসা নেন তারা। বড় অসুখ হলে আট কিলোমিটার দূরে জামালপুর জেলার বালিজুড়ি বাজারে যেতে হয় তাদের।
 
এ ব্যাপারে এসি ল্যান্ড আব্দুল কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত আশ্রয়ণ প্রকল্পের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হবে। ইউএনও মনিরুজ্জামানের সংগে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিন ফোন ধরেননি।
 
ইত্তেফাক/জামান