চলতি রোপা আমন মৌসুমে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলায় গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি জমিতে আমনের চাষাবাদ হয়েছে। তবে আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমণ ও রোগ বালাইয়ের উপদ্রবের কারণে কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। প্রাকৃতিক উপায়ে পোকা ও রোগ বালাই দমনের চেষ্টা ও কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোনো সুফল পাচ্ছেন না আমনচাষিরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য মতে, চলতি আমন মৌসুমে আক্কেলপুর উপজেলায় ১০ হাজার ৪শ' হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষাবাদ হয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি জমিতে। বন্যায় ২ হাজার ৭শ' ৫৫ হেক্টর জমির আমন ক্ষেত নষ্ট হলেও আমন লাগানোর সময় থাকায় পাশের জেলা-উপজেলা গুলো থেকে চারা সংগ্রহ করে নষ্ট হওয়া জমিতে চারা রোপণ করা হয়।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় স্বর্ণ-৫,ধানি গোল্ড-৩৪, ৫১, ৪৯, ৬২ ও হাইব্রিড জাতের ধানের ভালো ফলন হয়েছে। তবে কিছু জমিতে গোড়া পোঁচা, মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো রোগ দেখা দেওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আমন চাষিরা। বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এ বছর অতিরিক্ত খরচে আমন ধান চাষ করেছেন চাষিরা। আমনের ফলন ভাল হলেও জমিতে রোগ বালাই এখন কৃষকের চিন্তার কারণ হয়ে পড়ছে।
আক্কেলপুর উপজেলার হাস্তাবশন্তপুর গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, এবার আমন ধানের আবাদ বেশ ভালো হয়েছে। জমিতে পোকা ও রোগ দমন-নাশক ওষুধ স্প্রে করা হয়েছে। আমন ক্ষেত যদি পোকা মাকড় ও রোগ মুক্ত রাখা যায় তাহলে ভালো ফলন সম্ভব।
আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর গ্রামের লোকমান হোসেন জানান, তার ২ বিঘা জমিতে বিভিন্ন রোগ ও পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। দুইবার কীটনাশক স্প্রে করেও কোন সুফল পাচ্ছে না। আমন ক্ষেত নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি।
আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান বলেন, চারা ঘন করে রোপণ ও অতিরিক্ত ইউরিয়া সারের ব্যবহারে আমন ক্ষেতে বিভিন্ন রোগ দেখা দিতে পারে। কৃষকদেরকে নিয়ে আমরা উঠান বৈঠকের মাধ্যমে পরামর্শ দিচ্ছি। পাশাপাশি লিফলেট বিতরণ করছি। এছাড়াও পোকা ও রোগ দমনে চাষিদের কীটনাশক স্প্রের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
ইত্তেফাক/জামান
