মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল গ্রামের বাসিন্দা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী দরিদ্র পরিবারের সন্তান অনিল বিশ্বাস। ৮০ বছর বয়সে তিনি পদার্পণ করেছেন। বয়সের ভারে তিনি বর্তমানে ভালভাবে কথা বলতে বা চলাফেরা করতে বা কোন কাজও করতে পারেন না। তার স্ত্রী করুণা রানী বিশ্বাসেরও একই অবস্থা। ৭০ বছর বয়সে তিনিও বয়সের ভারে ও বিভিন্ন রোগে-শোকে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী।
সাত বছর বয়সে অনিল বিশ্বাস পিতৃহারা হওয়ার পর পৈত্রিক ভিটার ৬-৭ শতাংশ জমির উপর একটি ছোট্ট মাথা গোজার মত মাটির কাঁচা পোতা টিনের ঘর তৈরি করে বসবাস শুরু করেন এবং বাবার জাত পেশা মৎস্য আহরণ ও মৎস্য বিক্রির কাজে মনোনিবেশ করেন। এই সামান্য ব্যবসাকে পুঁজি করে তিনি স্ত্রী, সন্তানকে নিয়ে কোন মতে জীবনটিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। জন্ম থেকে বর্তমান পর্যন্ত ৮০ বছর বয়স তিনি শুধু দরিদ্রতার সাথেই সংগ্রাম করেই বেঁচে আছেন।
সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজের নানান পেশার মানুষের ভাগ্যের নানানভাবে পরিবর্তন ঘটে থাকে। কিন্তু সমাজে অন্য সবার ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটলেও বৃদ্ধ অনিল বিশ্বাসের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন ঘটেনি। ৮০ বছর বয়সের অনিল বিশ্বাস ও ৭০ বছর বয়সের করুণা বিশ্বাসের ভাগ্যে আজও জোটেনি কোন বয়স্ক ভাতার কার্ড বা অন্যান্য কোন সরকারি সুযোগ-সুবিধা। তাই তারা ইত্তেফাকের প্রতিনিধিকে কাছে পেয়ে আক্ষেপ করে তারা জানান, যে আর কত বছর বয়স হলে তারা বয়স্ক ভাতা কার্ড পাবেন। বৃদ্ধ অসুস্থ অনিল বিশ্বাস কাজে-কর্মে অক্ষম হয়ে পড়ায় তার একমাত্র ছেলে অরুণ বিশ্বাস বর্তমানে পরিবারের হাল ধরেছেন। বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে তিনিও চরম অভাব অনটনে ভীতর দিয়ে বাবার মত জীবন অতিবাহিত করছেন।
এ বিষয়ে অরুণ বিশ্বাস জানান, বাবার পৈত্রিক জাত পেশা ছেড়ে দিয়ে তিনি বিভিন্ন এনজিও থেকে ক্ষুদ্র ঋণের টাকা তুলে কাঁচামালের ব্যবসা করছেন। এখান থেকে যে লাভ আসে তা দিয়েই কোন মতে পরিবারের খরচ বহন করা হচ্ছে। বাবা-মার বয়স্ক ভাতার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের কাছে বারবার ধর্না দিয়ে প্রতারিত হয়েছি । নির্বাচনের সময় চেয়ারম্যান-মেম্বাররা কার্ড দেয়ার অঙ্গীকার করলেও বিজয়ী হওয়ার পর সব ভুলে যায়। তাই বয়স্ক ভাতা পাওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছি।
ওই ওয়ার্ডে নির্বাচিত ইউপি সদস্য বাহারুল ইসলাম এবিষয়ে বলেন, অনিল বিশ্বাসের নামসহ কয়েকজনের নাম পরিষদে জমা দেয়া আছে। এবছর আমার ওয়ার্ড থেকে তিনজনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্তি করা হয়েছে। বাদ-বাকিদের নাম পর্যায়ক্রমে অন্তর্ভুক্তি করা হবে।
শ্রীকোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুস্তাসিম বিল্লাহ সংগ্রামকে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন যে, বয়স্ক ভাতার বিষয়ে স্ব-স্ব ওয়ার্ডের মেম্বররা যাচাই-বাছাই করে থাকেন। তবে অনিল বিশ্বাস সম্পর্কে আমাকে কেউ কিছু বলেনি। তাছাড়া অনিল বিশ্বাসকে আমি তেমনটা চিনিও না। তবে তার পরিবারের লোকজন আমার সাথে যোগাযোগ করলে এবিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/জামান
