গোপালগঞ্জে আমন ধান রক্ষায় ৫শ’ আলোর ফাঁদ

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৭, ১৬:০৮
গোপালগঞ্জে আমন ধান রোগ বালইয়ের হাত থেকে রক্ষায় ৫ শ’ আলোর ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতি ব্লকের ক্ষেতের পাশে আলোর ফাঁদ স্থাপন করেছে কৃষি বিভাগ। এ ফাঁদে ক্ষেতের ক্ষতিকারক ও উপকারী পোকা মাকড় এসে পড়ছে। পোকা মাকড় দেখে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ক্ষেতে রোগ প্রতিরোধের আগাম ব্যবস্থাপনা নিয়ে কৃষককে পরামর্শ দিচ্ছেন। কৃষক পারমর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষেতের ফসল রক্ষা করছেন। এখন পর্যন্ত  গোপালগঞ্জে আমন ফসলে পোকার আক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি। আগামী ১ মাসের মধ্যে এ ধান কেটে কৃষক নবান্ন উৎসব করবেন। তাই এ মৌসুমে গোপালগঞ্জে আমনের বাম্পার ফলন নিয়ে কৃষক আশায় বুক বাঁধছেন।
 
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, চলতি আমন মৌসুমে ৬ হাজার ৭শ’ ৪৩ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ করা হয়েছে। আমন ধান রোগবালাই থেকে রক্ষায় এ উপজেলার ২১ টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা এলাকার ৪৮ টি ব্লকে  ৫ শ’ আলোর ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছে।
 
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া গ্রামের কৃষক আরোজ আলী, দিলীপ রায়, নওশের ইসলাম, আকরাম আলী, ননী গোপাল রায়, সাধু বৈদ্য, গোপালগঞ্জ পৌর সভার সোনাকুড় গ্রামের রেজাউল হক সিকদার রিজু বলেন, বন্যার ক্ষতি পুশিয়ে নিতে কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে আমন ধানের আবাদ করেছি। এখানে কৃষি বিভাগ আলোর ফাঁদ স্থাপন করেছে। এর মাধ্যমে ফসলকে রোগবালাই থেকে রক্ষায় কৃষি বিভাগ আমাদের পরামর্শ দিচ্ছে। পরামর্শ অনুসারে কাজ করে আমরা ফসল রক্ষা করছি। ক্ষেতের ধান ভালো দেখা যাচ্ছে। ১ মাসের মধ্যে এ ধান কাটা পরবে। আশাকরি এ ধানের বাম্পার ফলন পাবো। এ ধান দিয়েই অমরা নবান্ন উৎসব করব।IMG0
 
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখ বলেন, আলোর ফাঁদে ভালোই সাড়া মিলেছে। এতে ক্ষেতের ক্ষতিকারক ও উপকারী পোকা এখানে এসে পড়ে। পোকা দেখে আমরা ক্ষেতের বালাই ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে কৃষককে পরামর্শ দেই। কৃষক সেভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করে ক্ষেতের ফসল রোগ বালাই থেকে রক্ষা করছেন। এখন পর্যন্ত আমাদের এ উপজেলার ধান রোগাক্রান্ত হয়নি। কোন পোকা লাগেনি। কৃষক ভালো ভাবেই এ ধান ঘরে তুলে বন্যার ক্ষতি পুশিয়ে লাভবান হবেন।
 
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, কৃষি বিভাগ নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্ব দিয়েছে। তাই কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে এনে আলোর ফাঁদে পোকা দমনের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। এ উপজেলায় ৫ শ’ আলোর ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছে। এতে ফসলে কীটনাশকের ব্যবহার কমছে। ফলে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করে কৃষক আরো বেশি লাভবান হবেন।
 
ইত্তেফাক/এমআই