নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, অযত্ন-অবহেলা আর লোকবলের অভাবে মাগুরার একমাত্র মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। স্থানীয়ভাবে ম্যাটারনিটি হাসপাতাল নামে পরিচিত প্রসূতি সেবার এ প্রতিষ্ঠানটি এখন প্রসূতিদের জন্য মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় দেয়ালের অধিকাংশ জায়গায় ইট, বালু, চুন-সুড়কি খসে পড়ছে। দরজা-জানালা স্থানে স্থানে ভেঙে পড়েছে। বাথরুম, বেসিন সব জায়গাতেই ময়লা-আবর্জনার স্তূপ।
সরকারি খরচে এ প্রতিষ্ঠান থেকে গর্ভকালীন মায়েদের প্রসব, প্রসূতি মায়ের সেবা, লাইগেশন, স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিবার পরিকল্পনা, গর্ভবতী মায়ের সেবা, খাবার বড়ি, কনডম, ইনজেকশন পদ্ধতি, আইউডি, ইসিপি পদ্ধতি সেবা প্রদান করার কথা রয়েছে। কিন্তু অনেকেই এখানে এসব সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে সেবা নিতে আসা আন্না বেগম, মলিনা বিশ্বাস, বাসনা রায়সহ একাধিক রোগী বলেন, এ প্রতিষ্ঠান থেকে ওষুধপত্র সঠিকভাবে দেওয়া হয় না। চিকিত্সক ও কর্মচারীরা সব সময় রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহার করে। তারা অভিযোগ করেন প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন সরকারি বাসভবনে ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও ডাক্তার থাকেন নিজের বাসায়। সেখান থেকে তিনি বিভিন্ন ক্লিনিকে সিজার ও প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন।
এখানে কর্মরত সিনিয়র নার্স মঞ্জুয়ার সুলতানা বলেন, আমাদের এখানে সার্বক্ষণিক বিদ্যুত্ ব্যবস্থা নেই। বিল্ডিং চুয়ে পানি পড়ে, অপারেশন থিয়েটারে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় মোবাইলের আলো ও চার্জার লাইট দিয়ে ভেলিভারি করানো হয়। রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধের সরবরাহ না থাকায় সঠিকভাবে সেবা প্রদান করা যাচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের চিকিত্সক ডা. নন্দ দুুলাল বিশ্বাস জানান, প্রতিষ্ঠানের কোয়ার্টারটি ভাঙাচোরা ও অপরিষ্কার থাকায় আমি শহরের নতুন বাজার থাকি। তবে তার কারণে কোন রোগীর অবহেলা হয় এ বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। তিনি আরো বলেন, আমি প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন মায়ের ডেলিভারি করি। কিন্তু আমার এখানে একজন অ্যানেসথিওলজিস্ট না থাকার কারণে সিজার করতে পারি না। বিভিন্ন সময়ে বিষয়গুলো আমি সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
বিষয়টি নজরে আনলে মাগুরা জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক জানান, মাগুরা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি বেশ কয়েক বছর ধরে নানা জটিলতায় ভুগছে। প্রতিষ্ঠানটির সেবার মান উন্নয়নের জন্য আমরা সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।
ইত্তেফাক/নূহু
