কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে ফের রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে সোমবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ১১ রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ৬ নারী, ৫শিশু। এ ঘটনায় জীবিত ২১ জনকে উদ্ধার করা হয়।
রাখাইনে এখনো নিপীড়ন ও পাশবিকতা চলমান থাকায় মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে রোহিঙ্গারা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে বলে উল্লেখ করেছেন জীবিত উদ্ধার হওয়ারা।
কোস্টগার্ড শাহপরীর দ্বীপ স্টেশন কমান্ডার লে. জাফর ইমাম শরীফ জানিয়েছেন, সোমবার সকাল ৮টার দিকে সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়া বেড়িবাঁধ ভাঙার কাছাকাছি সাগর থেকে প্রথমে ৮টি মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। পরে বেলা ১১টার দিকে আরো ৩টি মরদেহ ভেসে আসার খবর পেয়ে তা উদ্ধার করা হয়েছে।
টেকনাফ থানার ওসি মো. মাইন উদ্দিন খান তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জীবিত উদ্ধার রোহিঙ্গাদের বরাত দিয়ে বলেন, রাখাইনের নাইক্যংদিয়া থেকে ৫০-৬০ জন রোহিঙ্গাবোঝাই একটি নৌকা শাহপরীর দ্বীপে কাছাকাছি পৌঁছলে সোমবার ভোররাতে ঢেউয়ের তোড়ে ডুবে যায়। এতে কেউ সাতরিয়ে বা কেউ ঢেউয়ের ধাক্কায় তীরে চলে আসেন। আর বাকি অনেকে নিখোঁজ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে সকাল ৮ টার দিকে কোস্ট গার্ড ও পুলিশ দল স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেখানে গিয়ে ২১ জন জীবিত ও প্রথমে আট জনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আরো তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করে। এদের মধ্যে ৬ নারী ও ৫ শিশু রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর মধ্যরাতে শাহপরীর দ্বীপ গুলারচরে রোহিঙ্গাবোঝাই অপর একটি নৌকা ডুবির ঘটনায় ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৩৮ মৃতদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। আর গত ২৯ আগস্ট থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গাবোঝাই ২৬টি নৌকাডুবির ঘটনায় ১৮২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এরমধ্যে ১৮১ জন রোহিঙ্গা। অন্যজন বাংলাদেশি নৌকার মাঝি। রোহিঙ্গাদের লাশের মধ্যে ৯১ জন শিশু, ৬২ জন নারী ও ২৯ জন পুরুষ। তাদের বাংলাদেশেই দাফন করা হয়েছে।
