নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো নানা সমস্যায় জর্জরিত।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে ও বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে জানা যায়, উপজেলায় মোট ২শত ৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৭৬টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এসব বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। দক্ষ প্রধান শিক্ষক না থাকায় এ বিদ্যালয়গুলোকে ভুগতে হচ্ছে বিভিন্ন সমস্যায়।
উপজেলার মীরগঞ্জ নিজপাড়া সরকারি প্রাথমকি বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয় ১৯৭৯ সালে। ঐ সময় ৪৫ শতক জমি স্কুলের নামে লিখে দেন বর্তমান অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল হক ও আজিজুল ইসলাম। সেই থেকে স্কুলটি সুনাম নিয়ে চললেও বর্তমানে করুন অবস্থা দেখা দিয়েছে।
উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম জানান, আমি দীর্ঘদিন এখানে চাকরি করছি। আগে কোন সমস্যা ছিল না। কিন্তু গত তিন বছরে আস্তে আস্তে স্কুলের জমিটি দখলে নিয়েছে এই এলাকার প্রভাবশালী জিয়াউর রহমান জিয়া, নুরুল ইসলাম ও আব্দুস ছালাম গংরা। এদের একটু কথা বললেই শুরু করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ। বৌ বাচ্ছাসহ লাঠি নিয়ে আসে শিক্ষকদের মারার জন্য।
প্রধান শিক্ষক আরো বলেন, আমার বাড়ি স্কুল থেকে ১০ কিঃ মিঃ দুরে হওয়ায় জিয়া ও তার লোকজন বিভিন্ন হুমকি দেয় আমাকে। এ ব্যপারে টিও সাহেবের মাধ্যমে ইউএনও সাহেবকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এখনো ইউএনও সাহেব এ ব্যাপারে তেমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নাই কিংবা স্কুলে আসেন নাই। তবে ২-৩ দিনের মধ্যে আসার কথা জানিয়েছেন।
ওই স্কুলের পঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্থী বর্ষা বলেন, আমরা স্কুলে আসি পাখির খাঁচায় বন্দি থাকার মতো থাকি। বাাইরে দাঁড়ানোর মত একটু জায়গা নাই। এমন কি বাথরুমে যাওয়ার রাস্তাটাও বন্ধ করে দিয়েছে তারা।
চতুর্থ শ্রেনীর সুমাইয়া আক্তার বলেন, আগে স্কুলে এসে সকালে সবাই এক সাথে জাতীয় সংগীত গাইতাম, এখন তা জায়গার অভাবে বন্ধ।
সহকারী শিক্ষিকা সাহিদা বেগম জানান, এবার প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শে সারাদেশের ন্যায় আমরাও স্কুলে গাছ লাগিয়েছিলাম। সে গাছগুলোও তুলে নিয়ে গেছে জিয়ারা।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জিয়া বলেন, কাগজমুলে আমাদের জমি আমরা ভোগ করছি। স্কুলের জমি হলে তারা আদালতের মাধ্যমে নেবে।
উপজেলায় গত বছরে ২য় পর্যায়ে জাতীয়করণ করা হয়েছে ৩৫টি স্কুল। সেগুলোসহ অনেক স্কুলে এখনও ভবন হয়নি। কোন স্কুলে ভবন থাকলেও পুরনো হওয়ায় পরিত্যাক্ত ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এর পরও পরিত্যাক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে ক্লাশ করাচ্ছেন শিক্ষকরা।
এক সময়ের নামী বিদ্যালয় ছিল শালন গ্রাম সরকারি প্রার্থমিক বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়টিরও এখন করুন অবস্থা। বিদ্যালয়টিতে পূর্বের তুলনায় ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা একবারে কম। তার ওপর সিটবেঞ্চের অভাবে মেঝেতে বসে ক্লাশ করছেন শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন মেঝেতে বসে পড়া, ধূুলাবালি ও কাপড় ময়লার ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসেন না। এতে পড়া লেখার যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি মনোবল হারাচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়টির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান মিলন বলেন, বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। এখানে একজন স্থায়ী প্রধান শিক্ষক দিলে সব সমস্যার সমাধান হবে। বিদ্যালয়টিও পূর্বের মত চলবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাহাজাহান আলী বলেন, প্রধান শিক্ষকের অভাব ও ভবনের সমস্যা বিদ্যালয়গুলোতে, এ বিষয়ে লিখিতভাবে জানিয়েছি কর্তৃপক্ষকে। এখন কর্তৃপক্ষ ব্যাবস্থা নিলেই সমাধান হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, স্কুলের জমি দখলের বিষয়টি নীলফামারী জেলা পরিষদের মাসিক সভায় আলোচনা হয়েছে। সেখান থেকে একটি তদন্ত টিম আসবে, তারা তদন্ত করে রিপোর্ট দিলে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
