মাঠ থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সকল পর্যায়ে খাদ্যকে কীটনাশকসহ সকল প্রকার ক্ষতিকর রাসায়নিক মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও বারসিক। একইসঙ্গে নিরাপদ খাদ্য উত্পাদনে সুনির্দিষ্টভাবে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে তারা। গতকাল সোমবার পবা কার্যালয়ে ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস’ উপলক্ষে ‘নিরাপদ খাদ্য উত্পাদনে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ দাবি জানান। দিবসটি উপলক্ষে এই বৈঠকের আয়োজন করে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও বারসিক।
বক্তারা বলেন, দেশের সিংহভাগ খাদ্য আসে কৃষি থেকে কিন্তু প্রতিনিয়ত এই খাদ্য উত্পাদন, গুদামজাতকরণ ও বাজারজাত প্রক্রিয়ায় বিভিন্নধরনের সার, কীটনাশক ব্যবহার করা হয় যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কেবলমাত্র শস্যজাত, সবজি ও ফলমূল নয়; আমিষজাত খাদ্যের প্রধান উত্স পোল্ট্রি ও মাছ বিষাক্ত হয়ে যাচ্ছে। উপস্থিত চিকিত্সক, গবেষক, কৃষিবিদরা জানান, পোল্ট্রি মুরগি ও মাছে ভয়াবহ মাত্রায় ক্রোমিয়াম ও সিসা পাওয়া গেছে। নিরাপদ খাদ্য উত্পাদন এক ভয়াবহ সংকট পাড়ি দিচ্ছে। আর এ সংকট মোকাবিলায় খাদ্য উত্স ও খাদ্য উত্পাদনকারী কৃষকের নিরাপত্তা সবার আগে নিশ্চিতকরণের জোর দাবি জানান তারা।
বৈঠকে বক্তারা বলেন, দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে নিয়মিত খাদ্যের মান পরীক্ষা করে জনগণকে জানাতে হবে। ভেজালবিরোধী অভিযানকে শুধুমাত্র শহরের বিপণিবিতান নয়, একেবারে সরাসরি মাঠপর্যায়ে খাদ্য উত্পাদন নজরদারিতে আনতে হবে। নিরাপদ খাদ্য এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষকে আরো জনবান্ধব এবং যুববান্ধব করে সক্রিয় করতে হবে। খাদ্যেও সঙ্গে জড়িত সকল বিভাগ ও দপ্তরকে সমন্বয় করে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে সক্রিয় হতে হবে। এককভাবে মানুষের জন্য খাদ্য উত্পাদন করতে গিয়ে অন্যান্য প্রাণ ও প্রজাতির খাদ্য ও পরিবেশকে বিনষ্ট করা যাবে না। গবাদি প্রাণিসম্পদের খাদ্যকেও ভেজালমুক্ত ও নিরাপদ করতে হবে। খাদ্যকে দূষিতকরণ, ভেজাল দেয়া এবং যেকোনোভাবে খাদ্যকে ঝুঁকিপূর্ণ ও জনস্বাস্থ্যবিরোধী করে তোলার সকল প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। এরকম শাস্তিযোগ্য অপরাধগুলো আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন পবা চেয়ারম্যান আবু নাসের খান। নিরাপদ খাদ্যের সংকট উত্তরণে করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন, রাজনীতিক পংকজ ভট্টাচার্য, পবার সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুস সোবহান, চিকিত্সক ও শিশু-কিশোর সংগঠক ডা. লেলিন চৌধুরী, পবার সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল, বারসিকের সমন্বয়ক সৈয়দ আলী বিশ্বাস, কৃষিবিদ এ বি এম তৌহিদুল আলম, মডার্ন ক্লাবের সভাপতি আবুল হাসানাত, নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. তৈয়ব আলী, বারসিকের মো. জাহাঙ্গীর আলম, লিপি কর, সুদিপ্তা কর্মকার, গোপাল কুমার দাস প্রমুখ।
বৈঠকে বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশের কৃষি, অর্থনীতি ও মানবাধিকর নিশ্চিতকরণের ভেতর দিয়ে সকলের জন্য নিরাপদ খাদ্য উত্পাদন ও গ্রাম উন্নয়নে সকলকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। গোলটেবিল বৈঠকে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন বারসিক সমন্বয়কারী পাভেল পার্থ।
ইত্তেফাক/নূহু
