মির্জাপুরে ভাঙাচোরা ও খানা-খন্দক রাস্তায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০১৭, ০২:৩৮

ভাঙাচোরা ও খানা-খন্দক রাস্তায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু জাতীয় মহাসড়কের মির্জাপুরে চলাচলকারী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় যেতে দেড় ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে কয়েক ঘণ্টা। মির্জাপুরের বিভিন্ন অংশের রাস্তায় বেশি ভোগান্তি হচ্ছে। এ বছর টানা বৃষ্টি আর মহাসড়কে চারলেনের হওয়ার কারণে মহাসড়কের অধিকাংশ স্থান থেকে পিস ঢালাই উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে বৃষ্টি অপর দিকে ভাঙাচোরা রাস্তায় প্রতিনিয়তই তীব্র যানজটের কারণে যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

রবিবার মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েটে গিয়ে দেখা দেখা গেছে, ভাঙাচোরা রাস্তায় যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকির মধ্যে। মহাসড়কের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত এলেঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ৬০ কি. মি. মহাসড়ক এখন খানা-খন্দকে ভরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ বছর টানা বৃষ্টির কারণে মহাসড়কের উপর থেকে পিস ঢালাই উঠে ছোট-বড় অসংখ্য খানা-খন্দরের সৃষ্টি হয়েছে। চন্দ্রা, খারাজোরা, কালিয়াকৈর, বোর্ডঘর, ক্যাডেট কলেজ, গোড়াই, সোহাগপাড়া, ধেরুয়া, দেওহাটা, মির্জাপুর বাইপাস, ইচাইল, কদিমধল্যা, পাকুর্যা, জামুর্কি, নাটিয়াপাড়া, করটিয়াসহ বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে খানা-খন্দক সৃষ্টি হয়েছে। খানা-খন্দকের ফলে যানবাহন ঠিকমত চলাচল করতে পারছে না। খানা-খন্দক মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং মহাসড়ক চার লেনের কাজে নিয়োজিত দুটি কোম্পানির পক্ষ থেকেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে যানজটের অপর কারণ তিনটি ফ্লাইওভারের কাজ, দুইটি রেল অভার ব্রিজ, ভাঙাচোরা ব্রিজ, রাস্তা এবং মহাসড়ক দেখা-শোনার কাজে নিয়োজিত সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ দুই কোম্পানির মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভাব। এছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে ড্রাম ট্রাক দিয়ে মাটি ফেলায় মহাসড়ক এখন অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এসব কারণেই মহাসড়কে তীব্র যানজট। এছাড়া প্রশাসনের অব্যবস্থাপনার কারণে চন্দ্রা এলাকায় রাজধানী ঢাকা যাওয়ার প্রবেশধার চন্দ্র-নবীনগর-ঢাকা রোড ও চন্দ্রা-গাজীপুর রোডে যানবাহন ঢুকতে না পারায় যানজটের অন্যতম কারণ বলে হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশ জানিয়েছেন।

বিশেষ করে যানজটে আটকে থাকা অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগী, নারী, বৃদ্ধ ও শিশুদের দুর্ভোগের শেষ নেই। কিছু কিছু যানবাহন বিকল্প পথ হিসেবে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ রোড হয়ে রাজধানী ঢাকায় যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন। উত্তরাঞ্চলের ২২টি জেলার যানবাহন এবং টাঙ্গাইল, জামালপুর ও শেরপুর জেলার যানবাহন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করে আসছে। যানজটে স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো মহাসড়ক।

কয়েকজন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিক অভিযোগ করেন, এ মহাসড়কের যানজটের অন্যতম কারণ হচ্ছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চার লেনের কাজের জন্য। চার লেনের কাজ করার জন্য মীর আক্তার হোসেন জেবি ও আব্দুল মোনায়েম কোম্পানি কাজ শুরু করেন ২০১৫ সালে। এই গুরুত্বপূর্ণ কাজে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং প্রশাসনের নজরধারী না থাকায় এবং মহাসড়কের দুই পাশে ড্রাম ট্রাক দিয়ে মাটি ফেলার কারণেই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবার এ মহাসড়কে যানজট সৃষ্টির অধিকাংশ কারণ যানবাহনের অদক্ষ চালক। একটু জ্যাম হলেই আগে যাওয়ার জন্য চালকরা লাইন ছেড়ে অন্য লাইনে যাওয়ার চেষ্টা করে। ফলে শুরু হয় দুই দিক থেকেই যানজট। এছাড়া চন্দ্রা এলাকায় প্রশাসনের অব্যবস্থাপনার কারণে যানবাহন পাস হতে (ঢাকা ও গাজীপুরে) ঢুকতে পারছে না। ফলে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যানজট এখন নিত্যদিনের জন্য পরিণত হয়েছে। যানজট নিরসনের জন্য তাদের অধিকাংশ সময় রাস্তার মধ্যে থাকতে হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে চারলেন কাজে নিয়োজিত মীর আকতার হোসেন জেবি লিঃ এবং আব্দুল মোনেম কোং লিঃ এর দায়িত্বশীল দুই কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, বাংলাদেশ সরকার এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের মধ্যে চুক্তি হয়েছে এ মহাসড়ক চারলেন কাজ করে দেওয়ার জন্য। সে অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। কিন্তু চারলেনের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভাঙাচোরা রাস্তা মেরামত করবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল হক মিজান বলেন, যানজটের মূল কারণ এ মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ভাঙাচোরা রাস্তা ও অসংখ্য খানা-খন্দক ও ভাঙাচোরা ব্রিজ। এছাড়া চার লেনের কাজ হলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং চারলেনের কাজে নিয়োজিত দুইটি কোম্পানির মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভাবে এ রোডে প্রতিনিয়তই যানজট হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী  এক প্রকৌশলী বলেন, টানা বৃষ্টি থাকার কারণে এ বছর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বেশ ক্ষতি হয়েছে। অর্থের সমস্যা থাকায় ভাঙাচোরা রাস্তা মেরামত করতে একটু বিলম্ব হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু