বরিশালের বাবুগঞ্জে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার ৩দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা নিতে দিনভর নাটকীয়তা ও গড়িমসি করেছে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ।
জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় বাবুগঞ্জ বাজারের এক বিউটি পার্লারের মালিকের মেয়ে সন্ধ্যার পর তার মায়ের কাছে যায়। কিন্তু মাকে না পেয়ে শিশুটি তাকে খুঁজতে বাজারের মধ্যে রওয়ানা হয়। এ সময় পার্লারের পাশ্ববর্তী অরুন লাইব্রেরির মালিক ব্যবসায়ী সুভাষ চন্দ্র পাল (৫০) চিপস ও চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর ওই লাইব্রেরির পেছনে বেডরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে এবং তাকে বের করে দেয়। শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে বাসায় যাওয়ার পথে তার মাকে দেখতে পেয়ে আরো কান্নাকাটি করে। কান্নার কারণ জানতে চাইলে শিশুটি তার মায়ের কাছে ঘটনাটি খুলে বলে।
এসময় তার মা লাইব্রেরিতে গিয়ে ধর্ষক সুভাষের ছোট ভাই অরুন চন্দ্র পালের (৪৫) কাছে বিচার দেন। তিনি মীমাংসার কথা বলে কাউকে কিছু জানাতে নিষেধ করেন। মেয়েকে নিয়ে বাসায় ফেরার পর ক্রমেই রক্তক্ষরণ বেড়ে অসুস্থতা বাড়তে থাকে। কিন্তু ঘটনার দুইদিন পেরিয়ে গেলেও কোন মীমাংসা না হওয়ায় শিশুটির মা-বাবা বিষয়টি বাজারের স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানান। কিন্তু তারা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সময়ক্ষেপণ করে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন।
সোমবার দুপুরে বাবুগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতির অফিসে মীমাংসার জন্য আলোচনায় বসেন অরুন।আলোচনায় ফলপ্রসূ মীমাংসা না হওয়ায় ধর্ষিতার মা থানায় ছুটে যান। কিন্তু বাবুগঞ্জ থানার ওসি আবদুস সালাম মামলা নিতে অপরগতা সুলভ আচরণ করে রাত পর্যন্ত গড়িমসি করে নাটকীয় ভূমিকা পালন করেন।
জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার একাধিক সংবাদকর্মী দিনভর সংবাদ সংগ্রহের জন্য থানায় অবস্থান করে তার কাছে একাধিকবার বিষয়টি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করলে তিনি বিরক্তভাবে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একটি জাতীয় পত্রিকার এক সংবাদকর্মী নিরুপায় হয়ে সহকারী পুলিশ সুপার আবুল বাসার আজাদকে বিষয়টি অবহিত করেন। তিনি তাৎক্ষণিক ওসি আবদুস সালামকে মামলা নিতে বলেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার লোহালিয়া গ্রামের মৃত. অমল চন্দ্র পালের দুই ছেলে ধর্ষক সুভাষ চন্দ্র পাল ও তার ছোট ভাই অরুন চন্দ্র পালকে আসামি করা হয়েছে। ওসি আবদুস সালাম জানান, একটি ধর্ষণ মামলা রজ্জু করা হয়েছে। শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য শেরে বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চলছে। এদিকে শিশু কন্যা ধর্ষণের ঘটনায় বাবুগঞ্জ উপজেলার সকল মহলে বিচারের দাবিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা (মঙ্গলবার, দুপুর ৩টা ৩০মিনিট) পর্যন্ত কোন আসামি গ্রেফতার হয় নাই।
ইত্তেফাক/আরকেজি
