সন্তানদের মধ্যে একজন প্রিয় হলে যে সমস্যা হয়

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৯, ০২:৫৭

একাধিক সন্তান থাকলে অনেক সময়ই দেখা যায় বাবা মায়ের কাছে কোনো একটি সন্তান একটু বেশি প্রিয়। অনেক বাবা মায়ের কাছে বিষয়টা স্বাভাবিক হলেও এর প্রভাব কিন্তু গুরুতর হতে পারে। বিশেষ করে এই সন্তানদের বড় হওয়ার প্রক্রিয়া দারুণভাবে প্রভাবিত হয়। এমনকি সন্তান বড় হয়ে যাওয়ার পরও ‘প্রিয় সন্তান’ এবং ‘গুরুত্ব কম পাওয়া সন্তান’ উভয়ের ওপরই ভীষণ রকম নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ সংক্রান্ত এক গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের শতকরা ৮৫ ভাগই জানিয়েছে যে, তারা তাদের পরিবারে বাবা মায়ের কাছের থেকে এ ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ পেয়েছেন।

কোনো একটি সন্তান মায়ের কাছে অথবা বাবার কাছে প্রিয় হতেই পারে কিন্তু এক্ষেত্রে বিষয়টা খুবই সংবেদনশীলতার সাথে সামলানো দরকার। আর যদি কোনো বাবা মা কোনো একটি সন্তান যে প্রিয় সেটি সন্তানদের সাথে নিজের আচরণের মাধ্যমে প্রকাশ করে ফেলে তাহলে তা ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। এতে একাধিক ভাই বোনদের মধ্যে সম্পর্কের বন্ধন নষ্ট হয়ে যায়। ভাই বোনদের মধ্যে বিভেদ তাদের পরবর্তী জীবনেও অব্যাহত থাকে।

ইয়েলেনা গিদেনকো, পি এইচ ডি, এল পি সি রিডার্স ডাইজেস্টকে বলেন, যে সন্তানটির কাছে মনে হয় তাকে কম ভালোবাসা হয় তার মধ্যে বিধ্বংসী হয়ে ওঠার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। তার কাছে সারাক্ষণই মনে হতে পারে যে তাকে কম ভালোবাসা হচ্ছে, পরিবারে ভাই বোনদের মধ্যে সে বেশি বঞ্চিত হচ্ছে। এক সময়ে তাদের মধ্যে হতাশা, ক্রোধ এবং হিংসামূলক আচরণ প্রবল হয়ে ওঠে।

একই সাথে যে সন্তানদের প্রতি বাবা মা বেশি ভালোবাসা প্রকাশ করে তাদের ক্ষেত্রেও কিছু খারাপ চরিত্র প্রকট হয়ে ওঠে। তাদের মধ্যে অহংকার বোধ কাজ করতে থাকে। কোনো সময় বাবা মা তাদের বদলে অন্যদের বেশি স্নেহ, ভালোবাসা বেশি দিলে তারা রাগান্বিত হয়। তাদের মধ্যে সব সময় উদ্বেগ, উত্কণ্ঠা এবং নিরাপত্তাহীনতা বাড়তে থাকে।

এই ধরনের জটিল সমস্যা এড়িয়ে যেতে বাবা মাকে অনেক বেশি সাবধানি হতে হবে। কোনো সন্তানের প্রতি যেন এই ধরনের একপেশে আচরণ প্রকাশ না পায় সেটি খেয়াল রাখতে হবে। একই সাথে সন্তানদের চাহিদা অনুযায়ী যৌক্তিকভাবে সেগুলো সমানভাবে সবার চাহিদা পূরণ করতে হবে। সামাজিক মনোবিজ্ঞানী ড. সুসান নিউম্যানের পরামর্শ, প্রত্যেক সন্তানই স্নেহ, ভালোবাসা, আন্তরিকতা চায়। বাবা মায়ের সাথে সময় কাটাতে ভালোবাসে। সুতরাং সব বাবা মায়েরই উচিত সব সন্তানকে সমানভাবে স্নেহ ভালোবাসা দেওয়া।-ডেইলি মিরর

ইত্তেফাক/আরকেজি