বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র খুনের ঘটনায় গ্রেফতার দুই

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৭, ১৯:৪১
রাজধানীর ওয়ারীতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ছাত্র খন্দকার আবু তালহা নিহতের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- বেলাল হোসেন সবুজ ও আব্দুর রহমান মিলন। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সুইজ গিয়ার লাইটার চাকু, একটি মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ওয়ারীর কাপ্তান বাজার থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গত ১৩ অক্টোবর এই খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জীবন হোসেন ওরফে লিঠু নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে র‌্যাব। অপরদিকে, পুলিশও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ইলিয়াস হোসেন লেন্টু (২৪) নামে সন্দেহভাজন আরেক আসামিকে গ্রেফতার করে দুই দিনের রিমান্ডে নেয়। 
 
গত ৮ অক্টোবর ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে বাসার অদূরেই ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে খুন হন তালহা। পরে ওই দিনই নিহতের বাবা নুরুদ্দিন খন্দকার বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি ওয়ারী থানায় একটি মামলা করেন। তালহা ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুলিয়া ক্যাম্পাসে কম্পিউটার সায়েন্সে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
 
পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান, গ্রেফতার দুইজন পেশাদার ছিনতাইকারী। তারা রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ছিনতাই করতো। বুধবার গ্রেফতার দুইজনকে আদালতে পাঠানো হয়। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনার সঙ্গে আরও একজন জড়িত রয়েছে। তাকে ধরতে অভিযান চলছে।
 
উপ-কমিশনার আরও জানান, নিহত তালহার বাড়ি কুমিল্লার বড়ুরা থানার দেওড়া গ্রামে। সে ১২/৪ কে.এম দাস লেন, টিকাটুলি ওয়ারীর স্থায়ী বাসিন্দা। ঘটনার দিন ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হন তালহা। রিক্সায় তিনি বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিলেন। কিছু দূর যেতেই দেখেন একদল ছিনতাইকারী দুইজনের (সানি ও তার বোন সাদিয়া) গতিরোধ করে। ছিনতাইকারীরা তাদের কাছ থেকে মোবাইল ও মানিব্যগ কেড়ে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিল।
 
তালহা দ্রুত রিকশা থেকে নেমে ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করে। পেছন থেকে সানিও তাদের ধাওয়া করে। তালহা ছিনতাইকারীদের লক্ষ্য করে এক টুকরো ইট নিক্ষেপ করে। চিৎকার করে সে লোকজন জড়ো করে ছিনতাইকারীদের ধরার চেষ্টা করে। কিন্তু ছিনতাইকারীরা নিজেদের বাঁচাতে পেছনে ফিরে তালহাকে এলোপাথারি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। আর এতেই নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আবু তালহা।
 
ইত্তেফাক/এমআই