স্কুল শিক্ষকের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর

মাটিরাঙ্গা পৌর কাউন্সিলর সোহেল রানা সঙ্গীসহ কারাগারে

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৭, ২৩:২৭

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বাড়িতে হামলা ও স্ত্রী- কন্যাকে লাঞ্চিতকারী মাটিরাঙ্গা পৌরসভার কাউন্সিলর সোহেল রানা তার সহযোগী জসিম উদ্দিন গ্রেফতার হয়েছে। হামলার ঘটনায় শিক্ষক হাবিবুর রহমানের স্ত্রী ফরিদা আক্তারের দায়ের করা মামলায় বুধবার দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাদের খাগড়াছড়ি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হলে আদালত দুজনকে জেলা হাজতে রাখার নির্দেশ দেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মো. মঞ্জুর মোর্শেদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন,  সোহেল রানা ও মামলার অপর আসামী জসিম উদ্দিন আদালতে হাজির হয়ে জামিনের প্রার্থনা করেছিল। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আবু সুফিয়ান মোহাম্মদ নোমান তাদের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে দুজনকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, সোহেল রানার নামে মাটিরাঙ্গা থানায় গত ৪ অক্টোবর মামলা রুজু করা হয়েছিল। এরপর পুলিশের নিষ্ক্রীয় ভুমিকার প্রতিবাদে এবং কাউন্সিলর সোহেল রানাসহ মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারপূর্বক কঠোর শাস্তির দাবীতে স্কুলের কয়েকশ ছাত্রছাত্রী গত রবিবার মানববন্ধন করে। দৈনিক ইত্তেফাকে গত ১৭ অক্টোবর এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।

শিক্ষক হাবিবুর রহমান জানান, গত ১ অক্টোবর পৌরসভার কাউন্সিলর সোহেল রানা দলবল নিয়ে মুসলিমপাড়ায় তাঁর বসতবাড়িতে হামলা চালায়। ঐ সময় তিনি বাসায় ছিলেন না। তিনি অভিযোগ করেন, সোহেল রানার কাছে তাঁর মেয়েকে বিয়ে না দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।

শিক্ষক হাবিবর রহমানের সহধর্মীনি তওহিদা আক্তার জানান, সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বড় মেয়েকে উত্যক্ত করত। কয়েকবার বিয়ের প্রস্তাবও দেয়। কিন্তু তারা এতে রাজী হননি। তার অত্যাচারে পড়ালেখা বন্ধ করে মেয়েকে গত মার্চে বিয়ে দিয়ে দেন। গত ঈদে মেয়েটি বাড়িতে বেড়াতে আসে। এ খবর পেয়ে কাউন্সিলর সোহেল রানা ১ অক্টোবর দুপুরে তাদের বাসায় ঢুকে ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করতে থাকে। এক পর্যায়ে মেয়েকে খুুঁজতে থাকে। এ সময় মেয়ে ঘরের একটি কক্ষে দরজা বন্ধ করে লুকিয়ে থাকে।

তিনি আরও বলেন, মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে সোহেল রানা অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করে এবং তাকে মারতে তেড়ে আসে। এ সময় তাঁর আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা  ছুটে আসলে কাউন্সিলর তার দলবল নিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় শিক্ষক হাবিবুর রহমানের স্ত্রী ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে গত ৪ অক্টোবর মাটিরাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

জানা যায়, পৌরসভার কাউন্সিলর সোহেল রানা এক সময় বিএনপির ক্যাডার ছিল। ২০১৫ সালে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার নির্বাচনের আগে সে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। আওয়ামী টিকেটে নির্বাচন করে সে ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর সে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে। তক্ষক ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসার সঙ্গে তার জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু