অবৈধ দখলদাররা গিলে খাচ্ছে তুরাগ নদ। এই দখলদারদের মধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি রয়েছে সরকারি সংস্থাও। মাটি, বালু, বর্জ্য ফেলে অবৈধভাবে দখল করা হচ্ছে তুরাগ। ভরাটজনিত এই দখলের ফলে অনেক স্থানে নদটি মৃত হয়ে গেছে। শিকার হচ্ছে দূষণের। এমনকি বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক নির্মিত ওয়াক-ওয়ে নদের জন্য বিষফোঁড়া হিসেবে দেখা দিয়েছে। এসব অবৈধ দখল ও নির্মিত স্থাপনা দ্রুত অপসারণের সুপারিশ করে হাইকোর্টে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দখল ও দূষণ দুই-ই তুরাগ নদকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বর্ষায় প্রাণে কিছুটা পানি পেয়ে তুরাগ বেঁচে উঠার চেষ্টা করলেও শুষ্ক মৌসুমে সে মরা পূতিগন্ধময় এক নর্দমায় পরিণত হয়। তাই তুরাগ নদ ও এর তীরের জনপদকে বাঁচাতে হলে দখল ও দূষণের করাল গ্রাস থেকে এ নদকে রক্ষা করতে হবে।
ঢাকার আশপাশের চার নদীর মামলার সীমানা জরিপ অনুযায়ী তুরাগ নদের তীর ভূমি দখল করে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনার তালিকা প্রস্তুত করতে গত ৫ জানুয়ারি বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। ওই নির্দেশ মোতাবেক তদন্ত কাজ সম্পন্ন করে গাজীপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন ১৫ অক্টোবর হাইকোর্টে এ প্রতিবেদন দাখিল করেন। ১০৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে কোন কোন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, সংগঠন ও ব্যক্তি সীমানা পিলারের ভেতরে প্রবেশ করে কী পরিমাণ নদ অবৈধভাবে দখল করেছে তা তুলে ধরা হয়েছে। রবিবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে এ প্রতিবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরাগ নদ ঢাকা ও গাজীপুর জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গেছে। গাজীপুর অংশে তুরাগ নদ ও তীরে অবৈধ স্থাপনা চি?হ্নিত করার জন্য তদন্ত কাজ পরিচালনার সময় দেখা যায় যে, এটি ঢাকা অংশেও ব্যাপক আগ্রাসনের শিকার হয়েছে এবং হচ্ছে। এই নদকে বাঁচাতে হলে ঢাকা অংশেও তীর ভূমির অবৈধ স্থাপনাসূমহ নির্ধারণ করে তা অপসারণ করা আশু প্রয়োজন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারখানা, ভূমি ও প্রতিষ্ঠানের মালিক সকলেই তুরাগ নদের বিভিন্ন প্রকার বর্জ্য ফেলে। চারদিক থেকে ফেলা বর্জ্য ও পলি জমে তুরাগ নদের তলদেশ ভরাট হয়ে নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তাই এই তলদেশ ড্রেজিং করে এবং বর্জ্য ফেলা বন্ধ করে এটিকে নৌযান চলাচলের উপযোগী করতে হবে।
গত ৬ নভেম্বর একটি ইংরেজি দৈনিকে ‘টাইম টু ডিক্লেয়ার টুরাগ ডেড’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। ওই রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট গত বছরের ৯ নভেম্বর গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, বিআইডব্লিউটিএকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী তারা আদালতে তালিকা দাখিল করে। কিন্তু রিটকারী বিচার বিভাগীয় তদন্তের আবেদন জানালে হাইকোর্ট বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয়।
ইত্তেফাক/নূহু
