স্বামী হারিয়ে দুই সন্তান নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতে খাদিজা

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০১৭, ১৫:৫৯
 
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বামীকে হারিয়ে দুই শিশু সন্তান নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন খাদিজা খাতুন। ছেলে মেয়ের ভরণ পোষণ, লেখাপড়া ও দৈনন্দিন খরচ চালিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবেন কিনা তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তার মধ্যদিয়ে দিনাতিপাত করছেন তিনি।
 
খাদিজা উপজেলা জামতৈল ইউপি'র নান্দিনামধু গ্রামের নূরুল ইসলাম মণ্ডলের কন্যা ও সদ্য খুন হওয়া জিন্নাহ মণ্ডলের স্ত্রী। সরেজমিনে খাদিজার বাড়ি গিয়ে জানা যায়, ২০০১ সালের মার্চ মাসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন খাদিজা-জিন্নাহ। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই-বোন হওয়ায় নিজ বাড়িতেই বসবাস করতেন। জিন্নাহ পেশায় ছিলেন একজন বিকাশ এজেন্ট ও বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর কোম্পানির লোড ব্যবসায়ী। স্বামী ছাড়া তার পরিবারে আয় রোজগার করার মত আর কেউ নেই। খাদিজার বৃদ্ধ বাবা বেঁচে থাকলেও বয়সের ভারে তিনি এখন আর কোন কাজকর্ম করতে পারেন না।
 
দাম্পত্য জীবনে ২০১১ সালে খাদিজার কোল জুড়ে আসে এক ছেলে সন্তান। তার নাম রাখা হয় হুজাইফা। ২০১৬ সালে আরেক ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। তার নাম রাখা হয় হাফসা। ছেলে হুজাইফা বাড়ির পাশেই নান্দিনামধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক প্রাথমিক শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। আর মেয়ের বয়স এখন মাত্র দেড় বছর। স্বামী জিন্নাহ, ছেলে হুজাইফা ও মেয়ে হাফসাকে নিয়ে সুন্দর সংসার গড়ে উঠেছিল খাদিজার। অনেক সুখ শান্তিতে কাটছিলো তাদের জীবন। স্বামীকে হত্যার পর এখন এই দুই শিশু সন্তান নিয়ে খাদিজার যেন দুঃখ কষ্টের শেষ নেই। কিভাবে চলবে তার সংসার তা নিয়েই সবসময় ব্যাকুল থাকতে হয় তাকে। দুর্বৃত্তরা এ পরিবারের সকলের মুখের হাসি কেড়ে নিয়েছে। চোখে মুখে অন্ধকার দেখছেন তারা।
 
উল্লেখ্য, খাদিজার স্বামী জিন্নাহ গত ১০ অক্টোবর রাতে নান্দিনামধু স্থানীয় বাজার থেকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে বাড়ির পাশে একটি খালে জিন্নাহকে কুপিয়ে ও পরে জবাই করে হত্যা করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার দিন রাতেই নিহতের স্ত্রী খাদিজা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা উল্লেখ করে কামারখন্দ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু খুনের ১০দিন পার হলেও কোন আসামিকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
 
এঘটনায় কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু ওবায়দা খান জানান, এটা একটা ক্লুলেস মাডার মামলা। এ মামলাটি আমরা খুব সতর্কতার সাথে অতিক্রম করছি। যেন কোন নিরীহ, সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে আমাদের দৃষ্টি রয়েছে। অপরাধী যেই হোক খুব অল্প সময়ের মধ্যে তাদের আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
 
ইত্তেফাক/জামান