আখাউড়া চেকপোস্টে ভারতগামী যাত্রীদের আটকে দেওয়ার অভিযোগ

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০১৭, ২১:৪৮
 
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া-আগরতলা চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাতায়াতকারী যাত্রীদের আটকে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে বিজিবির বিরুদ্ধে। সোনালী ব্যাংকে ভ্রমণ কর পরিশোধ না করে স্থলশুল্ক স্টেশনে কর পরিশোধ করায় যাত্রীদের ভারতে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না ২৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আখাউড়া চেকপোস্ট ক্যাম্পের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত যাত্রীদেরকে ভারতে যেতে দেয়া হয়নি। তবে যাত্রীদের চাপের মুখে ১২টার পর তাদেরকে যেতে দেয়া হয়।
 
জানা যায়, প্রতি শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে আখাউড়া চেকপোস্ট সংলগ্ন সোনালী ব্যাংকের বুথ ও আখাউড়ার প্রধান শাখা বন্ধ থাকে। ওই দিনগুলোতে যাত্রীরা ব্যাংকে ভ্রমণ কর পরিশোধ না করে স্থলবন্দরের কাস্টমসে একটি আবেদনের মাধ্যমে টাকা জমা দেন। ওই টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে ভ্রমণ করে নির্ধারিত রশিদ নেন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
 
তবে সবার টাকা জমা হয় কিনা এ নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়।
 
এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে কাস্টমসে নগদ টাকা জমা দেয়া যাত্রীদের আটকে দেয় বিজিবি। শুক্রবারও ব্যাংক বন্ধ থাকায় অনেকে কাস্টমসে নগদ টাকা জমা দিতে চান। কিন্তু বিজিবি বাধা দিচ্ছে বিধায় কাস্টমস নগদ টাকা রাখতে চায়নি। সকাল থেকে এভাবে অর্ধশতাধিক যাত্রী আটক পড়েন। এক পর্যায়ে যাত্রীরা বিক্ষোভও করেন। এ সময় দুই পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার পর কাস্টমস আবারো ভ্রমণ কর নগদ আদায় শুরু করেন। বেলা ১২টার দিকে যাত্রীরা যেতে শুরু করেন।
 
আখাউড়া স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা শ্যামল কুমার বিশ্বাস বলেন, অনেক আগে থেকেই এভাবে নগদ টাকা জমা রাখা হচ্ছে। কিন্তু বিজিবি আমাদের সঙ্গে কথা না বলেই যাত্রীদেরকে আটকে দেয়। যে কারণে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। নিয়ম অনুসারে ভ্রমণ করের বিষয়ে বিজিবির কোনো এখতিয়ার নেই। শুক্রবার বেলা ১২টা থেকে বিজিবি আবার যাত্রীদেরকে যেতে দেয়।
 
২৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. শাহ্ আলী বলেন, শুল্ক স্টেশনের কাছে জমা দেওয়া এই ভ্রমণ কর ব্যাংকে জমা দেয়ার বিধান রয়েছে। তবে যাত্রীদের এই কর সঠিকভাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়া হয় কিনা সে বিষয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। এজন্য বুধবার থেকেই বিজিবি সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন ব্যাংকে কর পরিশোধের রশিদ ছাড়া কাউকে ভারতে প্রবেশ করতে দেওয়া না হয়। তবে শুক্রবার ও শনিবার সরকারি বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ভারতে প্রবেশ করতে দেয়া হয়েছে। তবে রবিবার থেকে সোনালী ব্যাংকে ভ্রমণ কর পরিশোধ ছাড়া কাউকে যেতে দেয়া হবে না।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি