ফতুল্লায় জোড়া খুনে জড়িতরা চিহ্নিত

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০১৭, ০৯:৩৭
ফতুল্লার কাশীপুরের হোসাইনিনগর এলাকাতে জোড়া খুনের ঘটনায় রিমান্ডে থাকা আসামি রাকিব চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করছে। রিমান্ডে নেয়ার পর ডিবি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার থেকে তার চারদিনের রিমান্ড শুরু হয়।
 
এছাড়া গত বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে এজাহারভুক্ত আসামি আবুল হোসেনকে। তার আগে গ্রেপ্তার হয় রাজন। মামলাটি এখন ডিবি তদন্ত করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিবির একটি সূত্র শুক্রবার রাতে জানান, মূলত এলাকাতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। হত্যার ঘটনায় বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে যারা এজাহারভুক্ত আসামি না। তাদের ব্যাপারে যাচাইবাছাই চলছে। রাকিবের দেওয়া তথ্য মতে এসব আরো যাচাই বাছাই করা হবে। তবে যাদের নাম এসেছে তারা রাঘববোয়াল। তাদের অনেককেই নজরদারীতে রাখা হয়েছে। হত্যাকান্ডে যাদের ইন্দন যুগিয়েছে তারা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রভাবশালী নেতা বলে সূত্র জানায়।
 
এলাকায় ভূমি দখল, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের সাথে হত্যাকারীরা ও তাদের গডফাদাররা যে জড়িত এটা পুলিশ এখন অনেকটা নিশ্চিত। শুধু তাই নয় পিছনের ইন্ধনদাতাদেরও পুলিশ চিহ্নিত করে ফেলেছে।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরেই বাবুরাইল, তাতীপাড়া, হোসাইনিনগর এলাকাতে মাদক ব্যবসা ও জমি ব্যবসার জন্য একটি বিশাল বাহিনী তৈরি করে বিএনপি নেতা এম এ মজিদ ও হাসান আহমেদ। তবে সম্প্রতি ওই ঘটনায় বিরোধ সৃষ্টি হয়। মিল্টন এক সময়ে শহরের বিএনপি নেতা ভ্রাতৃদ্বয় এম এ মজিদ ও তার ছোট ভাই হাসান আহমেদের ক্যাডার থাকলেও কয়েক মাস ধরে ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ জড়িয়ে পড়ে। মূলত এলাকাতে একচ্ছত্র মাদক ব্যবসা ও এলাকা নিয়ন্ত্রন নিয়েই ওই বিরোধের সৃষ্টি। আর সে কারণেই বাপ্পী সিকদার ও জাহাঙ্গীর বেপারীর সঙ্গে বিরোধে জড়ায় মিল্টন। তবে আওয়ামী লীগের কারা এর সাথে জড়িত পুলিশ তা এখনও বলতে নারাজ। সূত্রমতে, খুব দ্রুত এ মামলার চার্জশিট দাখিল করা হবে।
 
মামলার বাদী ফতুল্লা মডেল থানার এস আই মোজাহারুল ইসলাম উল্লেখ করেন, কাশীপুর হোসাইনিনগর এলাকাতে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন, সন্ত্রাসী নিয়ন্ত্রন করে ভূমিদস্যু জাহাঙ্গীর বেপারী। তার গ্রুপের লোক ছিল মিল্টন ও পারভেজ। এর মধ্যে আধিপত্য নিয়ে মিল্টন ও জাহাঙ্গীর বেপারী আলাদা হয়ে যায়। তখন এক গ্রুপের নেতৃত্বে ছিল জাহাঙ্গীর বেপারী আর অপর গ্রুপের মিল্টন। এসব নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চরম আকারে রূপ নেয়। এর জের ধরে গত ৮ অক্টোবর রাত ১১টায় মিল্টনের নেতৃত্বে জাহাঙ্গীর বেপারীর গ্রুপের সদস্য বাপ্পীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে।
 
ইত্তেফাক/এএম।