অধিক জনগুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে চট্টগ্রাম ওয়াসার 'শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার' প্রকল্পের পাইপলাইন সংস্থাপনের জন্য অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি, কাজের দীর্ঘসূত্রতা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলা জনিত কারণে সৃষ্টি হয়েছে বেহাল দশা।
এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, হাটহাজারী, পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির কাপ্তাই সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় অর্ধকোটি মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগ করছেন যন্ত্রণা। অগণিত খানাখন্দকে বিধ্বস্ত সড়কটি যেন চলাচলকারী যাত্রীদের মৃত্যুফাঁদ। এছাড়াও দিনের বেলায় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, সড়কের মাটি বিক্রির জন্য রাস্তার মাঝে ট্রাক দাঁড় করিয়ে মাটি লোড করা ও ওয়াসার অদক্ষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কারণে যানজটের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের।নিত্যদিন অপচয় হচ্ছে সময়ের, নষ্ট হচ্ছে গাড়ির যন্ত্রাংশ, দুর্ঘটনার মিছিলে যোগ হচ্ছে ছোট বড় মর্মান্তিক ঘটনা।
সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের রাঙ্গুনিয়ার গোডাউন থেকে মোহরা রাস্তার মাথা পর্যন্ত প্রায় ২৬ কিলোমিটার সড়ক জুড়ে অগণিত গর্ত। কোথাও বিটুমিন উঠে গিয়ে কাদাজলে পরিপূর্ণ ডোবা সদৃশ বিশাল গর্ত। মোহরা রাস্তার মাথা থেকে মদুনাঘাট ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কে ৯০ শতাংশে নেই বিটুমিনের অস্তিত্ব। সহস্রাধিক গর্তে বিধ্বস্ত প্রায় সড়কটি মনে হয় পাহাড়ি দুর্গম বন্ধুর পথ।
মদুনাঘাট হতে রাউজান অংশের জনগুরুত্বপূর্ণ স্থান নোয়াপাড়া কলেজ গেইট থেকে পল্লী বিদ্যুৎ -২ কার্যালয়, মোতালেবের টেক হতে কালু মরার টেক, গশ্চি নয়াহাট, দমদমা, রাউজান পিংক সিটি-২ এর পূর্বাংশ থেকে চুয়েট হয়ে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পর্যন্ত, রাঙ্গুনিয়ার অংশে সেলিনা কাদের কলেজ, বুড়ির দোকান থেকে শান্তির হাট বাজার হয়ে বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়, গোছরা চৌহমুনি, ইছাখালি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পূর্বদিক পর্যন্ত ছোট বড় সহস্রাধিক গর্তে সড়কটির বেহাল দশা।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ, চট্টগ্রাম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ দৈনিক ইত্তেফাককে জানান, সড়কটি দায়ভার সম্পূর্ণ ওয়াসার উপর ন্যস্ত করা হয়েছে। তাদের কাজ সম্পূর্ণ হলে তারা সড়কটি কার্পেটিং করে দিবেন। তাদের অবহেলার কারণে জনগণ কষ্ট ভোগ করছেন।
ওয়াসার প্রকল্প পরিচালক ইয়াকুব সিরাজদৌল্লাহ দৈনিক ইত্তেফাককে জানান, ২০১৯ সাল পর্যন্ত ওয়াসার কাজ চলবে এরপর আমরা সড়কটি কাপেটিং করে দিব। দিনের বেলায় কাজ করা প্রসঙ্গে তিনি জানান, কিছু কিছু জায়গায় জটিলতার কারণে দিনের বেলায় কাজ করতে হয়। আর আমাদের নিজস্ব ট্রাফিক ব্যবস্থা সর্বদা যানজট নিরসনে কাজ করছেন।
ইত্তেফাক/জামান
