দেশের প্রখ্যাত নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, রাজধানীর খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকেজো হয়ে পড়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। ঢাকা ওয়াসার ড্রেনগুলো কঠিন বর্জ্যে ভরাট হয়ে গেছে। ওয়াসা দীর্ঘ ৪০ বছরেও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করেনি। ঢাকা ওয়াসার ড্রেনেজের মহাপরিকল্পনা তৈরির যে একটা প্রক্রিয়া চলছিল, তার অগ্রগতি জানা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, অবিলম্বে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থার আওতায় ঢাকায় বর্তমানে যে ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক রয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে সচল করতে হবে পরিষ্কার করে। ঢাকা ওয়াসার সাড়ে তিনশর মতো বৃষ্টির পানি যাওয়ার নর্দমা রয়েছে। যেগুলোর তলানিতে কঠিন বর্জ্য ও পয়োবর্জ্য জমা হয়ে শক্ত হয়ে আছে। সেগুলো পরিষ্কার করতে যন্ত্রপাতি নিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আগামী মাসের মধ্যেই স্বল্পমেয়াদি কাজ শুরু করা উচিত। আগামী মৌসুম পর্যন্ত বসে থাকলে আগামী বছর আমাদের আবার দুর্যোগের মধ্যে পড়তে হবে। স্বল্পমেয়াদি কাজের পরে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প হাতে নিতে হবে। খালগুলো মুক্ত করে সচল করতে হবে। ড্রেনেজের জন্য যে ডিজাইন করা হয়েছে, তা এখন অনুসরণ করা হচ্ছে কি না দেখতে হবে। সংস্থাগুলোর বোঝা উচিত, জনগণের টাকার অপচয় করা যাবে না, পরিকল্পিত কাজ করে জনগণের সেবা করতে হবে। সিটি করপোরেশন ও ওয়াসার মধ্যে সমন্বয় যে নেই তাদের কাজেই বোঝা যায়। দুটি সংস্থা দুই ধরনের ড্রেনেজব্যবস্থার মধ্যে আছে। তারা আলাদা আলাদা প্রকল্প করে। ডিজাইন না জেনে, সমন্বয় না রেখে এক সংস্থার নর্দমার সঙ্গে আরেক সংস্থার নর্দমা কীভাবে যুক্ত করা হচ্ছে তা বিস্ময়কর।
ইত্তেফাক/আনিসুর
