ভাঙ্গা-চোরা ও খানা খন্দকে ভরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক এবং বঙ্গবন্ধু সেতু জাতীয় মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ৭০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। এ রোডে চলাচলকারী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে এ যানজট এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে।
মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই হাইওয়ে থানার পুলিশ ও মির্জাপুর থানা পুলিশ যানজটের বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, গত চারদিন ধরে প্রবল বৃষ্টি থাকায় এবং মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেশি হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট শুরু হয়। তীব্র যানজট থাকার কারণে এ মহাসড়কের চলাচলকারী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
আজ রবিবার মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাস, দেওহাটা ও গোড়াই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, যানজটে স্থবির হয়ে পড়েছে মহাসড়ক। মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত মহাসড়ক জুড়েই এখন তীব্র যানজটে স্থবির। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে মির্জাপুর থেকে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা মোড় এলাকা পর্যন্ত। যানজটের কারণে উত্তরাঞ্চল ও টাঙ্গাইলের মধুপুর, ধনবাড়ি, জামালপুর ও শেরপুর জেলার অধিকাংশ যানবাহন বিকল্প মহাসড়ক হিসেবে সখীপুর-ভালুকা, টাঙ্গাইল- ময়মনসিংহ হয়ে ময়মনসিংহ-ঢাকা রাস্তায় চলাচল করছে বলে পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই যানজট এখন চন্দ্রা থেকে গাজীপুর ও চন্দ্রা থেকে বাইপাইল-নবীনগর ও বাইপাইল-আশুলিয়া-উত্তরা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
গোড়াই হাইওয়ে থানার ওসি মো. খলিলূর রহমান পাটোয়ারী জানিয়েছেন, মির্জাপুরের ধেরুয়া রেলওয়ে ওভার পাস নির্মাণ, কোনাবাড়ি ও চন্দ্রা এলাকায় দুটি ওভার ব্রিজ নির্মাণের ফলে দুইদিক থেকে আসা ও যাওয়ার পথে যানবাহন ঠিকমত পারাপার হতে পারছে না। একদিকে প্রচুর বৃষ্টি অপর দিকে তীব্র যানজটের কারণে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে বলে হাইওয়ে পুলিশ স্বীকার করেছেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম মিজানুল হক মিজানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গত কয়েক দিন ধরে যানজট নিরসনের জন্য ট্রাফিক পুলিশ, থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এ রিপোর্ট পাঠানো পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু জাতীয় মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট অব্যবহৃত রয়েছে।
ইত্তেফাক/জামান
