জোয়ারে ভেসে গেল রাখালসহ ৬ শতাধিক গরু-মহিষ

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৭, ১৫:০৩
 
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নিখোঁজ হয়েছেন দুই রাখালসহ ছয় শতাধিক গরু-মহিষ। এ ছাড়ও ঘূর্ণিঝড়ে দু'উপজেলার ৫শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।
 
নিখোঁজ রাখালরা হলেন, চর ফলকন গ্রামের কালু পলোয়ানের ছেলে হান্নান (৩৫) ও পাটারিরহাট ইউনিয়নের আব্দুজ্জাহের (৪০)। শুক্রবার (২০ অক্টোবর) গভীর রাতে উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়নের মেঘনা নদী জেগে উঠা কাঁকরার চরে ফিরোজ বাঘার মহিষের কিল্লা থেকে দুই রাখালসহ গরু-মহিষ ভেসে যায়।
 
কমলনগর মহিষ খামার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজিরহাট উপকূল ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান স্বপন জানান, পাটারিরহাট ইউনিয়নের মো. ফিরোজ বাঘার ১শ' ৫০টি মহিষ, ফলকন ইউনিয়নের নুর নবী বাঘার ১শ'টি মহিষ, শফিকুল ইসলামের ১শ'টি মহিষ, একই এলকার আনোয়ারুল ইসলামের ১শ'টি মহিষ, দুলাল বাতানের ৫০টি মহিষ, জসিমের ৫০টি মহিষ, জামাল উদ্দিনের ৫০টি মহিষসহ প্রায় ৬শতাধিক গরু-মহিষ জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যায়। নদীতে গরু-মহিষ মরা ভেসে যেতে দেখেছে বলে জানান স্থানীয় মেঘনা পাড়ের বাসিন্দারা।
 
ক্ষতিগ্রস্ত মহিষ মালিক ও কাঁকড়ার চরে কিল্লা নির্মাণকারী মো. ফিরোজ বাঘা বলেন, জেগে ওঠা চরে ৫লাখ টাকায় নির্মিত ওই কিল্লায় ১০-১২ জন মালিকের প্রায় ১২শ' গরু-মহিষ লালন-পালন করে আসছেন তারা। শুক্রবার গভীর রাতে জলোচ্ছ্বাসে কিল্লা লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। এ সময় দুই রাখাল নিখোঁজ হয় এবং বিভিন্ন মালিকের ৬শতাধিক গরু-মহিষ ভেসে নিখোঁজ হয়।
 
কমলনগর উপজেলার চরফলকন ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান হাজী হারুনুর রশিদ জানান, তার ইউনিয়নে প্রায় দুই শতাধিক কাচা ও আধপাকা ঘরবাড়ি ঘূর্ণিঝড়ের কবলে বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া মেঘনার নদীর আকস্মিক ভাঙনের কবলে পড়ে তলিয়ে গেছে ৩০টি ঘর-বাড়ি। উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন জানান, এতে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
 
ইত্তেফাক/জামান