ফেরী সংকটে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় তীব্র যানজট

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৭, ২০:১১
 
দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ঢাকামুখী পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী পরিবহনের একমাত্র প্রবেশদ্বার খ্যাত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটে প্রায় দেড় মাস ধরে ফেরী সংকট চলছে। যা গত এক সপ্তাহ ধরে তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে করে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে পরিবহন চালক ও সংশ্লিষ্ট সকলেই। এর সাথে গত দুই দিনের বৈরী আবহাওয়ার কারণে উভয় পাড়ে ফেরী সংকটে লেগেই আছে।
 
বিআইডব্লিউটিসির সূত্র জানায়, ফেরী সংকট ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে শুক্রবার থেকে সৃষ্ট দুর্ভোগ শনিবার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত বিগত ১২ ঘণ্টা ফেরী বন্ধ থাকে। ওই দিন রাত ১০টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বৈরী আবহাওয়ার কারণে আরো ১০ ঘণ্টা ধরে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটে ৬টি ফেরী বন্ধ ছিল। ফেরী গুলো হচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান,  আমানত শাহ্,  চন্দ্রমল্লিকা, শাপলা-শালুক ও ঢাকা। যান্ত্রিক ভাবে দুর্বল বলেই ফেরীগুলো বন্ধ রাখা হয়, এটাই সংশ্লিষ্টরা দাবী করেন। তবে অপর ৭টি ফেরী চালু ছিল। বর্তমানে পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানা মধুমতিতে মেরামতে আছে ফেরী শাপলা-শালুক, কুমারী ও ফেরী শাহ্জালাল। রুটের অপর ফেরীগুলোর মধ্যে গত এক থেকে দেড় মাস ধরে নারায়ণগঞ্জের ডক ইয়ার্ডে সংস্কারে আছে ফেরী ভাষা শহীদ বরকত, শাহ্আলী, খানজাহান আলী ও কপতি।
 
ঘাট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে শতাধিক যাত্রীবাহী বাস ও  পণ্যবাহী ৩শতাধিক ট্রাক, কাভার ভ্যান নদী পারের অপেক্ষায় রয়েছে।  ঘাট থেকে প্রায় ১৩  কিলোমিটার অদূরে আহলাদীপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘাটের উপর চাপ কমাতে প্রায় ২ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক আটক করে রেখেছে। ঘাটে বিশাল টার্মিনাল এলাকায় অন্তত ২ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক আটক করে রাখা হয়েছে।
 
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, ফেরী সংকট ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে শুক্রবার থেকে সৃষ্ট দুর্ভোগ রবিবারও প্রকট ছিল। রবিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত আগের দিনের দূর পাল্লার নৈশ কোচ গুলো নদী পাড় হয়। আটকে থাকা যাত্রীরা সারারাত সীমাহীন দুর্ভোগ পোহান। কর্মজীবী মানুষ ছাড়াও বিভিন্ন জন  বিভিন্ন ভাবে ভোগান্তির শিকার হন।
 
বোয়ালমারী থেকে আসা সূর্যমুখী পরিবহনের চালক মো. রুবেল শেখ বলেন, রবিবার সকাল ১১টায় তিনি ঘাটে পৌঁছান। বেলা ২ টা বাজলেও কখন ফেরীর নাগাল পাবেন তা তিনি জানেন না। এতে ওই বাসের যাত্রীরা  বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের খুবই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
 
বিআইডব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বেশ কয়েকটি ফেরী যান্ত্রিক ভাবে দুর্বল হওয়ায় ঘন ঘন বিকল হচ্ছে। ফেরী সংখ্যা পর্যাপ্ত থাকলেও এ কারণে পারাপারে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। তবে ফেরীগুলো সার্বক্ষণিক চালু রাখতে সংশ্লিষ্টরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
 
ইত্তেফাক/এমআর