স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এ লক্ষ্যে ঢাকা শহরের ৪৭টি খাল পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
গতকাল রবিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, অপরিকল্পিত নগরায়নসহ ঢাকা শহরের মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসাসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধানে সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।’ জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশন ও ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা বিষয়ক অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরের সমস্যাগুলো এক দিনের নয়, এগুলো দীর্ঘদিনে সৃষ্টি হয়েছে। সমাধানেও একটু সময় লাগছে, তা নিরসন করা সম্ভব, তবে আমরা আন্তরিকতার সাথে কাজ করছি। আশা করি, আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই জলাবদ্ধতা সমস্যার অনেকটা সমাধান হবে।’
তিনি বলেন, ঢাকা শহরের খালগুলো ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এগুলো পরিষ্কার করতে হবে। সবকয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে হবে। ঢাকার জলাবদ্ধতাকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে তিনি চিহ্নিত করেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘কী কী কারণে রাজধানীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে তা প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আমরা যেসব সমস্যা চিহ্নিত করছি তা নিরসনে উদ্যোগ নিচ্ছি। মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ঢাকার জনসংখ্যা হওয়া উচিত ছিল পঁচাত্তর লাখ থেকে এক কোটি। অথচ সেখানে এই সংখ্যা তিনগুণ বেশি। অপরিকল্পিতভাবে ঢাকা গড়ে ওঠার কারণেই এ সমস্যা।’
সেমিনারে মন্ত্রী বলেন, দেশে মেট্রোপলিটন এলাকায় এক হাজার ৭০০ বিশেষায়িত, সাধারণ হাসপাতাল ও ক্লিনিক, মেডিক্যাল কলেজ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এছাড়া ১৯৯টি অ্যালোপ্যাথিক, ১৭২টি আয়ুর্বেদিক, ২৬৯টি ইউনানী, ২৯টি হার্বাল ও ২৮টি হোমিওপ্যাথিকসহ মোট সাতশটির অধিক কোম্পানি নিয়মিত ওষুধ উত্পাদন করে থাকে। হাসপাতাল ও ওষুধ কোম্পানিগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উত্পন্ন হয়। এসব ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো এ ব্যাপারে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ঢাকায় দুই দিনে ২৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে বিরাজমান সমন্বয়হীনতার বিষয়ে তিনি বলেন, ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ৬টি সংস্থা কাজ করে। তবে অতিবর্ষণজনিত জলাবদ্ধতা নিরসনের মূল দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ওসমান গনির সভাপতিত্বে ‘মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এই সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবদুল মালেক, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিসবাহুল ইসলাম, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলালসহ দুই সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/নূহু
