সংসদে নারী আসন বাড়ানো, নির্বাচনে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ধর্ম ও টাকার ব্যবহার বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) প্রস্তাব দিয়েছেন নারী নেত্রীরা। একাদশ নির্বাচন সামনে রেখে সোমবার নারী নেত্রীদের সঙ্গে সংলাপ করে ইসি। নাগরিকদের সমান অধিকারের বিরোধী রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন নারী নেত্রীরা। এর সঙ্গে যেসব দলের গঠনতন্ত্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধানবিরোধী তাদের ব্যাপারেও একই পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
আগামীকাল মঙ্গলবার নির্বাচন পরিচালনায় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে ইসির এই ধারাবাহিক সংলাপ শেষ হবে। একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত ৩১ জুলাই থেকে অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ শুরু করে ইসি। সোমবার পর্যন্ত সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ও নারী নেত্রীদের সঙ্গে সংলাপ করেছে ইসি।
সোমবার সকালে নারী নেত্রীদের সঙ্গে সংলাপ করে ইসি। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে বেলা ১১টায় শুরু হয়ে দুপুর একটায় সংলাপ শেষ হয়। সংলাপে বিভিন্ন সংগঠনের ২২জনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ১৩ জন নারী নেত্রী অংশ নেন। ইসির অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার এবং ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সংলাপে উপস্থিত ছিলেন।
সংলাপ শেষে বেসরকারি সংস্থা প্রিপ ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক অ্যারোমা দত্ত সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। গণমাধ্যম যাতে সুন্দরভাবে কাজ করতে পারে সেটা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক বেগম রোকেয়া কবির বলেন, তাঁরা জেনেছেন কয়েকটি দল রাজনৈতিক দলের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার বিধান তুলে দেয়ার দাবি করেছে। তাঁরা ইসিকে বলেছেন, এটা সংবিধান বিরোধী। কেউ এ ধরনের প্রস্তাব দিয়ে থাকলে তাদের দলীয় গঠনতন্ত্র খতিয়ে দেখতে হবে। গঠনতন্ত্র সংবিধান বিরোধী হলে তাদের নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।
ডিজ্যাবল্ড রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড রিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিআরআরএ) নির্বাহী পরিচালক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, দেশে মোট ভোটারের ৫২ শতাংশ নারী। নির্বাচনের সময় তাদের বিভিন্নভাবে চাপ দেয়া হয়। নারীদের ক্ষেত্রে ধর্ম ও টাকার ব্যবহার বেশি হয়। এগুলো বন্ধ করতে ইসিকে ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রে জেনারেল সেক্রেটারি পারভীন সুলতানা ঝুমা বলেন, যেখানে ৫২ শতাংশ নারী ভোটারের অংশগ্রহণের একটি নির্বাচিত সংসদ আসবে, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সেই নারীদের যেন চাপ প্রয়োগ করা না হয়। তাদের যেন সম্মানের সঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়, সে সুপারিশ করার কথা জানান তিনি।
এছাড়া সংসদে এক-তৃতীয়াংশ নারী আসন বরাদ্দ ও এতে সরাসরি ভোটের ব্যবস্থা, ভোটে নারীদের বেশি মনোনয়ন, ‘না ভোট’ রাখার বিধান এবং মসজিদে নারীদের ভোট দিতে নিরুত্সাহিত করার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে সুপারিশ করেন নারীনেত্রীরা।
সংলাপে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব উইমেন ফর সেলফ এমপাওয়ারমেন্টের (বাউশী) নির্বাহী পরিচালক মাহবুবা বেগম, ফর ইউ ফর এভারের (ফাইফে) প্রেসিডেন্ট রেহানা সিদ্দিকী, নারী উদ্যোগ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক মাসহুদা খাতুন শেফালী, নারী নেত্রী রেখা চৌধুরী, ফাতেমা আক্তার, নাসরিন বেগম, রীনা সেন গুপ্ত ও মনসুরা আক্তার।
সাবেক সিইসির সঙ্গে সংলাপ মঙ্গলবার
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় সাবেক পাঁচজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), সাবেক ১২জন নির্বাচন কমিশনার, সাবেক সচিব, পুলিশের আইজিসহ নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংলাপে বসবে কমিশন। নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংলাপের মধ্যে দিয়ে এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। গত ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এবং ১৬ ও ১৭ অগাস্ট গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে করে ইসি। এরপর গত ২৪ অগাস্ট থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত ৪০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ করেছে নির্বাচন কমিশন। গত রবিবার নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং সর্বশেষ গতকাল নারী নেত্রীদের সঙ্গেও সংলাপ করেছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।
ইত্তেফাক/এমআই
