গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতালদের পুনর্বাসনে আশ্রয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। কাটবাড়ী ইউনিয়নের দশ একর জমিতে তিনটি আশ্রয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ফকিরগঞ্জ, বোগদহ ও ফুলহার-১ আশ্রয়ন প্রকল্পে ইতোমধ্যে মাটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় প্রকল্পগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তা মেরামতের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করা হয়েছে।
সোমবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসকের দেয়া এ প্রতিবেদন পড়ে শোনানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মোত্তর জরিপ গ্রহণপূর্বক প্রকল্পগুলিতে সিআই সিট ব্যারাক নির্মাণের জন্য প্রকল্প পরিচালকের নিকট থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। বন্যা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক প্রকল্পগুলো পরিদর্শন ও প্রাথমিক জরিপ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। শিগগিরই ব্যারাক নির্মাণ কাজ আরম্ভ করা হবে। তিনটি আশ্রয়ন প্রকল্পে ব্যারাক নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাঁওতাল পরিবারকে পুনর্বাসন করা সম্ভব হবে। বর্তমানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস হাইকোর্টে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন। হাইকোর্ট ২২ নভেম্বর এ বিষয়ে পরবর্তী অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করে দেয়।
গত বছরের ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ এলাকায় ওই সংঘর্ষে কয়েকজন সাঁওতাল নিহত ও পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। অগ্নিসংযোগ করা হয় সাওতাল পল্লিতে। এ ঘটনায় দায়েরকৃত রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট সাঁওতালদের পুনর্বাসনে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা প্রতিবেদন আকারে আদালতকে জানাতে নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশের পর জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল উপরোক্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে দাখিল করেন।
ইত্তেফাক/এমআই
