বরগুনায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৭, ০০:২০

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপে জোয়ারের প্রভাবে পায়রা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় একাধিক স্থানে দুর্বল বেড়ি বাঁধ ভেঙে বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলার প্রায় ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এখনও প্রায় ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

গত কয়েক দিন ধরে টানা বর্ষণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। তবে রবিবার থেকে আবহাওয়া পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। ভাঙা বেড়ি বাঁধ দিয়ে পানি নামতে শুরু করেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান জানান, বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করে গ্রাম তলিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। পানি নেমে গেলে এগুলো দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মুরাদনগরে ২০ গ্রাম প্লাবিত

মুরাদনগর (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় ২০টি গ্রামের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিতসহ তলিয়ে গেছে মুরাদনগর-ইলিয়টগঞ্জ সড়ক। এতে উপজেলা সদরের সাথে দক্ষিণ মুরাদনগরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার। হঠাত্ পাহাড়ি ঢলে নদীর দুই পাড়ের প্রায় তিন হাজার হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় শীতকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিকে নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে হুমকির মুখে রয়েছে শহর রক্ষার জন্য নির্মিত বেড়িবাঁধ। উপজেলার বেড়িবাঁধ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় সেখানে বসবাসকারী দরিদ্র জনগোষ্ঠী বেড়িবাঁধের ওপর খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মুরাদনগর উপজেলার গোমতী নদীর পানি বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে উপজেলার মুরাদনগর সদর, চৌধুরীকান্দি, নয়াকান্দি, ধামঘর, কোম্পানীগঞ্জ, গুঞ্জুর, পইয়াপাথর, নিমাইকান্দি, নবীপুর, জাহাপুর, শুশুন্ডা, দুলারামপুর, দিলালপুর, দড়িকান্দি, সাতমোড়া, আলিরচর, ধনিরামপুর, ভূবনঘর, বাখরাবাদসহ প্রায় ২০টি গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। পানিবন্দি লোকজন বসতবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। অনেক পরিবার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। এদিকে উপজেলার ভূবনঘর এলাকায় মুরাদনগর- ইলিয়টগঞ্জ সড়ক ডুবে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে এ সড়কের চলাচলকারী যাত্রীরা। এ সড়কটি ডুবে যাওয়ায় উপজেলার সদরের সাথে দক্ষিণ অঞ্চলের সাতটি ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে বেড়িবাঁধ এলাকার প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখানকার কৃষকরা আগাম শীতকালীন সবজির চাষ করে। চরের মাটি উর্বর হওয়ায় এতে মুলা, সিম, টমেটো, করলা, লালশাক, ডাটা শাকসহ বিভিন্ন সবজির চাষ করা হয়। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ হয়ে থাকে। সেইসব ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে এবং সকল ফসল বিনষ্ট হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু