কাহারোলে ঝড়-বৃষ্টিতে আমন ধানের ক্ষতি

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৭, ১১:৩৩
 
আমন আবাদ করতে গিয়ে এবার কিছুতেই যেন পিছু ছাড়ছে না বিভিন্ন দুর্যোগ। আবাদের শুরুতেই ভয়াবহ বন্যা, এবং এরপর পোকা ও রোগ বালাই এবং এরপরই প্রবল ঝড় বৃষ্টি। এভাবেই একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যাপকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার কৃষক।
 
সম্প্রতি বন্যায় কাহারোল উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমন ধানের ক্ষেত। বন্যায় আমন ক্ষেতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই উপজেলার বিস্তীর্ণ আমন ক্ষেতে দেখা দেয় পোকা ও রোগ বালাই। আমন আবাদে এসব প্রতিকূলতা কাটিয়ে তাদের নতুন করে ঘুরে দাড়ানোর স্বপ্নে এখন বাধ সেজেছে বৈরি আবহাওয়া। নিম্ন চাপের ফলে গত শুক্রবার ও শনিবার টানা ঝড় বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় নুইয়ে পড়েছে কৃষকের ধান ক্ষেত। এতে ঝড় বৃষ্টিতে নুইয়ে পরা ধান ক্ষেতের সাথে নুইয়ে পড়েছে কৃষকের স্বপ্ন।
 
আমন আবাদের শুরুতেই ভয়াবহ বন্যায় কাহারোল উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। ১৩ আগস্ট থেকে শুরু হওয়ায় টানা ১ সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় ১ হাজার ৯শ' ৯৪ হেক্টর জমির আমন ধান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৮ হাজার ৭ শত ৫০ কৃষক। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর অধিকাংশ কৃষকই নিজস্ব উদ্যোগে কেউ কেউ সরকারি সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে পুনরায় আমন চারা রোপণ করে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসাব মতে ভয়াবহ বন্যার পরও কাহারোলে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১৪ হাজার ৭ শত ৫০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করা হচ্ছে।
 
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শামিম জানান, বন্যার পর পলিমাটি জমে জমি উর্বর হওয়ায় এবার ফলনও ভালো হবে। এরপর জমিতে বিভিন্ন ধরণের রোগ বালাই শুরু হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ও পরামর্শে এই পরিস্থিতির মোকাবেলা করে কৃষকেরা। এ অবস্থা কাটিয়ে না উঠতেই গত শুক্রবার ও শনিবার প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ে কাহারোলের বিভিন্ন এলাকায় আমন ক্ষেত মাটিতে নুইয়ে পড়ে। অনেক স্থানে নুইয়ে পড়া আমন ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায় এতে আমনের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আমন ক্ষেতে একের পর এক দুর্যোগের কারণে হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। এতে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তারা।
 
ইত্তেফাক/জামান