কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় ১০০টি পরিবারে গ্রামীণ নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে একটি চক্র এই কাজ গুলো করে দিচ্ছে। টাকা না দিলে কাজ হচ্ছেনা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশের মূল ভূ-খণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হবার পর ছিটমহলে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। এর ধারাবাহিকতায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় গ্রামীণ নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পটি ছিটমহলসহ উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ছিটমহলবাসীদের জন্য বিনামূল্যে নলকূপ ও রিং দেওয়ার কথা থাকলেও তা টাকার বিনিময়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে জানা যায়, দাসিয়ারছড়ার বটতলা কামালপুর গ্রামের সহিদুল ইসলামের নিকট থেকে ৫ হাজার, একই গ্রামের আবুবক্কর সিদ্দিকের ৫ হাজার টাকা, মোবারকের ২ হাজার টাকা, আফজালের পাঁচশ টাকা, মোশাররফের ২ হাজার টাকা, ছালামের ২ হাজার টাকা, হামিদের ৫ হাজার টাকা, শফিকুল ইসলামের ৩ হাজার টাকা, দেবীরপাট কামালপুরের আজিবর আলীর কাছে থেকে এক হাজার ও তার ছেলে আটশ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। এই টাকা দাসিয়ারছড়া বাসিন্দা আব্দুল গণির মাধ্যমে উপজেলা মেকানিক সাইফুর রহমান নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

এছাড়া দাসিয়ারছড়া কামালপুর গ্রামের ছয়ফুল ইসলাম, শহির উদ্দিন, জমশেদ আলী জানান, আমরা টাকা দেয়নি বলে গত পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে অল্প কাজ করে রেখেছে। টাকা দিলে কাজটা শেষ হত। তাদের কাছে তিন থেকে চার হাজার টাকা দাবী করেছেন স্থানীয় আব্দুল গনি।
তবে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন অভিযুক্ত আব্দুল গণি। তিনি জানান, উপজেলা অফিসের নির্দেশে তালিকা তৈরি করতে সহযোগিতা করেছেন।
ঠিকাদার আবু হোসেন জানান, অর্থ লেনদেনের বিষয়টি আমরা জানা নেই। আমরা তালিকা অনুযায়ী কাজ করেছি। ছিটমহলে দুইজন ও ফুলবাড়িতে একজন ঠিকাদার কাজ করছেন।
আরও পড়ুন: রিয়ার হার্টে ছিদ্র, বাঁচতে সাহায্যের হাত বাড়ান
উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী (অতি:দা:) মো. সারওয়ার কামাল শুভ জানান, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সায়হান আলী জানান, টাকার বিনিময়ে কাজের অভিযোগ পেলে তা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে।
ইত্তেফাক/অনি
