বোলারদের দুর্দান্ত পারফরমেন্সের কারণেই শ্রীলংকার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ৫-০ ব্যবধানে জয় সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। অন্যদিকে পাকিস্তানের কাছে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশের জন্য ব্যাটসম্যানদের কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন শ্রীলংকার অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গা। গতকাল পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অভিমত ব্যক্ত করে এমন কথা বলেন সরফরাজ ও থারাঙ্গা।
শারজায় সিরিজে পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে বাঁ-হাতি পেসার উসমান খানের বোলিং তোপে মাত্র ১০৩ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলংকা। নিজের প্রথম ২১ ডেলিভারিতেই শ্রীলংকার ৫ উইকেট তুলে নেন উসমান। ম্যাচে দ্রুত ৫ উইকেট নেয়া বিশ্বের তৃতীয় বোলার হিসেবে নিজের নাম রেকর্ড বইয়েও তুলেছেন তিনি।
এরপর ২০তম ওভারের দ্বিতীয় বলেই শ্রীলংকার ছুঁড়ে দেয়া ১০৪ রানের টার্গেট ১ উইকেট হারিয়েই টপকে যায় পাকিস্তান। তাই ৯ উইকেটে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডে জিতে শ্রীলংকাকে প্রথমবারের মত হোয়াইটওয়াশের লজ্জা দেয় পাকিস্তান। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে শুরু করে টানা নয় জয়ের স্বাদ নিলো পাকিস্তান।
শ্রীলংকাকে হোয়াইটওয়াশ করার পেছনে দলের বোলারদের প্রধান ভূমিকা ছিলো বলে মনে করেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ। তিনি বলেন, ‘আমি খুবই খুশি এ কারণে, যখনই যে সুযোগ পেয়ে সেই পারফরমেন্স করেছে। নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও পাঁচ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে প্রধান কার্যকর ভূমিকা রেখেছে উসমান। আসলে প্রথম পাঁচ ওভারেই ম্যাচ শেষ করে দিয়েছে সে। আমরা দিনে দিনে আরও বেশি শক্তিশালী হচ্ছি। আমাদের হাতে অনেক বেশি অপশন রয়েছে। ব্যাটিংয়ে আমাদের আরও বেশি পারফর্ম করতে হবে। যদি আমরা ২৭০-২৮০ রান করতে পারি, তবে সেটি রক্ষা করার মত সার্মথ্য আমাদের বোলারদের রয়েছে।’
অপরদিকে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশের জন্য দলের ব্যাটসম্যানদের এক হাত নিলেন শ্রীলংকার অধিনায়ক থারাঙ্গা। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের বোলারদের বিপক্ষে আমরা মাথা উঁচু করে খেলতে পারিনি। আমরা আমাদের সেরাটা দিতে পারিনি, সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারিনি। পুরো সিরিজে আমরা ২৫০ রানের কাছাকাছিও যেতে পারিনি। এমনকি মাত্র দু’বার ২শ’র কোটা অতিক্রম করেছি। কখনোই চাপ নিয়ে খেলতে পারিনি। শেষ ওয়ানডেতে উসমানের সামনে আমাদেও ব্যাটসম্যানরা মুখ থুবড়ে পড়ে। তাকে যোগ্য জবাব দিতে পারিনি। পাকিস্তানের বোলাররা সবসময়ই উইকেট নেয়ার জন্য চেষ্টা করে গেছে এবং তারা সফলও হয়েছে। ব্যাটসম্যানদের ভুল শট নির্বাচন ও ধৈর্য্যের অভাবে আমাদের এমন লজ্জা নিয়ে সিরিজ শেষ করতে হলো।’
ইত্তেফাক/কেআই
