শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি সমান গুরুত্ব দিয়ে শেখার আহ্বান

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৭, ১৯:২১
শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি ভাষা সমান গুরুত্ব দিয়ে শেখার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেছেন, এক শ্রেণির বাচ্চা গড়গড় করে ইংরেজি বলতে পারে তারা বাংলা বলতে পারে না। অপরদিকে মধ্য ও নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুরা বাংলা ভালো পারলেও ইংরেজি পারে না। এতে করে সমাজে এক ধরনের বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। এই বৈষম্য ঘোচাতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ইংরেজি শেখার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে কোরিয়ার উন্নয়ন সংস্থা ‘গুড নেইভারস বাংলাদেশ’। 
 
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে ‘শিশুদের ইংরেজি শব্দ শেখা প্রতিযোগিতার’ পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। কোরিয়ান উন্নয়ন সংস্থা ‘গুড নেইভারস বাংলাদেশ’ এর সহযোগিতায় পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম’। 
 
আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানা যায়, প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিশুদের পাবলিক পরীক্ষায় ফেল করার অন্যতম কারণ ইংরেজিতে দুর্বলতা। একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ফেল করলে শিক্ষার প্রতি অনিহা তৈরি হয়। সেখান থেকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছেলে শিশুটাকে পরিবার থেকে শ্রমের সঙ্গে যুক্ত করে দেয়া হয়, আর মেয়ে শিশুটিকে বিয়ে দেয়া হয়। শ্রম ও বাল্যবিয়ে থেকে রুখতে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জন্যে চালু হয়েছে আনন্দের সঙ্গে ইংরেজি শব্দ শেখা কার্যক্রম।
  
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, দেশে শিশুর সংখ্যা প্রায় ছয় কোটি। এসব শিশুর সবার সমান অধিকার পাওয়ার কথা থকলেও, বাস্তবে এর চিত্র পুরোই বিপরীত। কোন শিশু শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুমে ক্লাস করছে, আর কোনো শিশুর বিদ্যালয়ে ছাদ নেই। পাঁচ লাখ শিশু স্কুলে যাওয়া বাদ দিয়ে গৃহশ্রমিকের কাজ করছে। তিনি বলেন, প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার বই সরকার শিশুদের বিনামূল্যে দিচ্ছে। অনেক স্কুলে দুপুরের খাবার অর্থাৎ টিফিন দেয়া হচ্ছে। অথচ কোচিং বাণিজ্য দেশের পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রনালয়কে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিতে হবে।
  
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী শিশুদের কাছে জানতে চান তারা কোচিং করে কি-না। এর উত্তরে প্রায় সব শিশু জানান তারা কোচিং করে। রাশেদা কে চৌধুরী শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি ভাষা সমান গুরুত্ব দিয়ে শেখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের দেশের এক শ্রেণির অভিভাবকরা গর্ব করে বলেন, আমার বাচ্চা গড়গড় করে ইংরেজি বলতে পারে, বাংলা তেমন পারে না। অপরদিকে মধ্য ও নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুরা বাংলা ভালো পারলেও ইংরেজি পারে না। এতে করে সমাজে এক ধরনের বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, সরকার হচ্ছে বড় জাহাজের মতো, নড়তে চড়তে সময় লাগে। খালে-বিলে ঢুকতে পারে না। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনকে এ ধরনের ছোট ছোট উদ্যোগ নিতে হবে। শিশুদের ইংরেজি শেখানোর কার্যক্রমের জন্যে আয়োজক সংস্থাকে ধন্যবাদ জানান। 
 
অনুষ্ঠানে দেশের ৯ জেলায় সরকারি-বেসরকারি মিলে মোট ১১১ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গুড নেইভারস বাংলাদেশ ইংরেজি শেখার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এতে ৩ হাজার ৭২৭ জন শিশু ‘ইংরেজি শব্দ শেখা প্রদিযোগিতায়’ অংশ নেয়। যাকে বলা হচ্ছে-‘ইন্টারস্কুল ওয়ার্ড মাস্টার কমপিটিশন’। এই প্রতিরোগিতার শ্লোগান ‘শব্দ শেখ ভাষা শেখ’। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে জাতীয় পর্যায় অংশ নেয়া ৪৫ জন শিশুর মধ্য থেকে ১ম, ২য়, ৩য় স্থানসহ ১৫ জন শিশুকে সার্টিফিকেট ও অর্থ অনুদান দেয়া হয়।    
  
বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের চেয়ারপারসন মো. এমরানুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইংলিশ র‌্যাঙ্গুয়েজ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক আরিফা রহমান, শিশু অধিকার ফোরামের পরিচালক আব্দুস শহিদ মাহমুদ, গুড নেইভারস বাংলাদেশের পরিচালক মাঈনুদ্দীন মাঈনুল প্রমুখ। 
 
ইত্তেফাক/এমআই