আপন জুয়েলার্সের তিন মালিক কারাগারে

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৭, ০৯:৩৭
কর ফাঁকির পাঁচ মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদসহ তিনজন আত্মসমর্পণ করার পর তাদেও জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা হলেন- দিলদার আহমেদের দুই ভাই গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদ। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দায়ের হওয়া ওই মামলাগুলোতে মঙ্গলবার আসামিরা আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার পৃথক চার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
 
এদিন দুপুরে রাজধানীর গুলশান, ধানমন্ডি, রমনা এবং উত্তরা-পূর্ব থানার পাঁচ মামলায় আসামিরা আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। বেলা ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত পৃথক চার ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে শুনানি হয়। প্রথমে দিলদার আহমেদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে রাজধানীর উত্তরা-পূর্ব, ধানমন্ডি ও পরে রমনা থানার তিন মামলায় জামিনের শুনানি হয়।
 
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসান উত্তরা-পূর্ব থানার মামলায়, ম্যাজিস্ট্রেট নুরুন্নাহার ইয়াসমিন ধানমন্ডি থানার ও দেবব্রত বিশ্বাস রমনা থানার মামলায় শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
 
পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আহসান হাবীব আসামি গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদের বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানার দুই মামলায় শুনানির পর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
 
আদালতে আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট কাজী নজীব উল্যাহ হিরু ও ফেরদৌস সুলতানা কাকলী জামিন আবেদন শুনানি করেন। শুনানিতে অ্যাডভোকেট নজিব উল্যাহ হিরু বলেন, কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই শুল্ক গোয়েন্দা অফিসাররা আপন জুয়েলার্সের পাঁচটি শাখায় অভিযান চালিয়ে স্বর্ণালংকর জব্দ করে শোরুমগুলো সিলগালা করে দেয়। এর বিরুদ্ধে আসামিরা যখন উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন তখন রাষ্ট্রপক্ষ রিট শুনানিতে সময় নেয়। এর মাঝে  গত ১২ আগষ্ট তাদেও আসামি করে এই মামলাগুলো দায়ের করেন।
 
তিনি বলেন, মামলায় অর্থ পাচারের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সুনির্দিষ্ট নয়। টাকা কিভাবে ও কোথায় পাচার করা হয়েছে তা মামলার কোথাও বলা নেই। উচ্চ আদালত থেকে তারা জামিন পেয়েছিলেন। তারা অসুস্থ ও বয়স্ক। তাদের জামিন দেওয়া হোক।  অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে সংশ্লিস্ট থানার প্রসিকিউশন (জিআরও) পুলিশের কর্মকর্তারা জামিন আবেদনের ঘোর বিরোধিতা করেন। 
রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করে শুনানিতে তারা বলেন, আসামিরা মামলাসমূহে গত ২২ আগস্ট হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করলে হাইকোর্ট তাদের চার সপ্তাহের জন্য জামিন মঞ্জুর করেন। চার সপ্তাহ পর তাদের নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের প্রার্থনা করার কথা ছিল। কিন্তু তারা প্রায় ৯ সপ্তাহ পর এসেছেন। তারা জামিনের শর্ত ভঙ্গ করেন। এ অবস্থায় তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হোক।
 
শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর আসামিদের কারাগারে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা প্রদানের জন্য আবেদন করেন তাদের আইনজীবীরা। এক্ষেত্রে কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বিচারকরা কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। 
 
চোরাচালানের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা প্রায় ১৫ মণ স্বর্ণ ও হীরা জব্দের ঘটনায় ওইসব মূল্যবান ধাতু কর নথিতে অপ্রদর্শিত ও গোপন রাখার দায়ে আপন জুয়েলার্সের মালিক ওই তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে গত ১২ আগস্ট রাজধানীর চার থানায় মোট পাঁচটি মামলা দায়ের করে শুল্ক গোয়েন্দা। মামলাগুলোতে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) এর ধারা ২ (ঠ) এবং কাস্টমস অ্যাক্ট, ১৯৬৯-এর ধারা ১৫৬(৫) এর অভিযোগ আনা হয়। 
 
ইত্তেফাক/এমআই