জলপাই চাষ বেড়েছে পঞ্চগড়ে

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৭, ১৭:২০
জেলায় মৌসুমী ফল জলপাই চাষ বেড়েছে। এটি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল। এখন জলপাই বিক্রি করা শুরু হয়েছে। জলপাই চাষ এ জনপদের মানুষদের অর্থনীতিতে সমৃদ্ধ হওয়ার এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে চাষীরা জানান। দেবীগঞ্জে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ লাখ টাকার জলপাই বিক্রি হচ্ছে। মাসে হচ্ছে ১ কোটি টাকার ওপরে। প্রতি কেজি জলপাই প্রকারভেদে ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। 
 
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেবীগঞ্জ থেকে প্রতিদিন ৫শ মণ বা তারও বেশি জলপাই কেনা হয়ে থাকে। কমপক্ষে ১০০ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জলপাই কিনে জেলার বাইরে থেকে আসা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। প্রতিদিন ২টি করে ট্রাক জলপাই লোড করে নিয়ে যান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ২০ টাকা কেজি হিসেবে মণ হয় ৮শ টাকা, ৫শ মণের দাম হচ্ছে ৪ লাখ টাকা। এভাবে জলপাই বেচা-কেনা চলবে প্রায় ৩ মাস ধরে। সে অনুযায়ী দেবীগঞ্জের বাজার থেকে জলপাই বিক্রি হবে প্রায় সাড়ে ৩ কোটির টাকার কাছাকাছি। কার্তিকের প্রথম থেকে জলপাই বাজারে আসা শুরু করেছে, চলবে পুরো পৌষ মাস পর্যন্ত। তবে মাঝখানে এর আমদানি আরও বাড়বে, এমন ধারণা ব্যসায়ীদের। কেনা-বেচার এ কাজে দেবীগঞ্জে নতুন করে শতাধিক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ জলপাই কেনা-বেচার আড়ৎ হচ্ছে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে। প্রতিদিন দেবীগঞ্জে জলপাইর বাজার বসে। 
জলপাই খেতে টক, তাই অনেকে খেতে চাইতো না। ফলে এ ফলটির এক সময় খুব কদর ছিল না এ অঞ্চলের মানুষদের নিকট। ফলশ্রুতিতে লোকজন তেমনভাবে জলপাই চারা লাগাতো না। সময়ের ক্রমাগত পরিবর্তন অনেক কিছুর চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি জলপাইরও চাহিদা বেড়েছে। এ অঞ্চলের জলপাই এখন যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে। জলপাই কিনতে আসা ব্যবসায়ী রহিদুল, হেলালের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলে জলপাইর প্রচুর চাহিদা। এর একটি হচ্ছে ওদিকে জলপাই হয় না, অপরদিকে ওই অঞ্চলের লোকজন ডালে জলপাই খায়, আচার করেও খাওয়া যায়। 
 
পঞ্চগড় জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সামছুল হক জানান, জলপাই ভিটামিন সি ফল, উঁচু জমিতে জলপাই চাষ ভাল হয়, আর এখানকার জমি অপেক্ষাকৃত উঁচু যা জলপাই ফলনের জন্য বেশ সহায়ক। তার মতে, দেবীগঞ্জে রয়েছে জলপাইর ছোট-বড় অসংখ্য বাগান। এছাড়া অধিকাংশ বাড়িতে রয়েছে ২/৪টি করে জলপাইর গাছ। এছাড়া প্রাণ ও স্কয়ার কোম্পানি আচারের জন্য প্রচুর জলপাই কেনে, জলপাই থেকে হয় তেল, জলপাইর নানামুখী চাহিদা থাকায় এর প্রয়োজনীয়তা এখন সামনের দিকে এগুচ্ছে। ফলে পঞ্চগড় জেলায় দিনদিন জলপাইয়ের চাহিদা বৃদ্ধিসহ লোকজন ব্যাপকহারে জলপাইয়ের বাগান করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগও কৃষকদের আগ্রহকে অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। 
 
পঞ্চগড়ে জলপাই বাণিজ্যিক হিসেবে আবির্ভূত হতে চলেছে। জলপাই গাছ লাগাতে পারলেই হয়। খুব বেশি পরিচর্চার প্রয়োজন হয় না। দিতে হয় না সার ও সেচ। ফলে এটি একটি লাভজনক ফল বাগান। ফলনও ভাল। কমপক্ষে একটি গাছে এক থেকে দেড় মণ জলপাই ধরে। জলপাইয়ের নার্সারী করে সাবুল এখন বেশ স্বাবলম্বী। জলপাইয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ভবিষ্যতে এ জেলার অর্থনীতিতে আরও ব্যাপক গতি সঞ্চার করবে মর্মে আশাবাদ এ কৃষি কর্মকর্তার। বাসস।
 
ইত্তেফাক/এমআই