স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে মানিকগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগ

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৭, ২৩:০৬

স্বাস্থ্য ও  পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসাদ জাহিদ মালেক স্বপনের নাম ভাঙিয়ে মানিকগঞ্জে পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি হচ্ছে বলে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগ ও শ্রমিকলীগের নেতারা।  পরিবহন সেক্টর নিয়ন্ত্রণে নিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে চাঁদাবাজ বলে উল্লেখ করছে।

মানিকগঞ্জ জেলা বাস মিনিবাস মাইক্রোবাস ওনার্স গ্রুপের আহবায়ক জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন টিপু ও মানিকগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি বাবুল সরকার বুধবার বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে ৫ দফা দাবি জানিয়ে আলটিমেটাম দিয়েছেন। তাদের দাবি আগামী ৮ নভেম্বরের মধ্যে মানা না হলে পরে দিন ৯ নভেম্বর থেকে মানিকগঞ্জ জেলায় ৪৮ ঘন্টা সড়ক পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।

ওই লিখিত অভিযোগে জানান, গত ১৩ অক্টোবর স্বাস্থ্য ও  পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপনের নাম ভাঙিয়ে তার ভাই ইসরাফিল (সদর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি) ও জাহিদুল ইসলাম (পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি)  বহিরাগত লোকজন নিয়ে তাদের অফিস ও টার্মিনাল দখল করে নেন। এরপর মালিক শ্রমিকদের কাছ থেকে জোর করে চাঁদা আদায় করে আসছেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে মানিকগঞ্জ জেলা বাস মিনিবাস মাইক্রোবাস ওনার্স গ্রুপ ও   মানিকগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ যৌথভাবে ১৫ অক্টোবর বাস ধর্মঘটের ডাক দেয়। জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ওই দিনই সকাল ১০ টায় ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় মালিক শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে যে কোনো মুহূর্তে মানিকগঞ্জে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় মারাত্মক অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে বলে ওই লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন।

দখলদারদের উচ্ছেদ, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে অফিস ও টার্মিনাল বুঝিয়ে দেওয়া, দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, পরিবহন মালিক শ্রমিক সংগঠনে দলীয়করন বন্ধ ও মালিক শ্রমিকদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানান তারা। এই দাবিগুলো মানা না হলে ৯ নভেম্বর থেকে মানিকগঞ্জ জেলায় ৪৮ ঘন্টা সড়ক পরিবহন ধর্মঘটের আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে।

মানিকগঞ্জ জেলা বাস মিনিবাস মাইক্রোবাস, অটোট্যাম্পু ওনার্স গ্রুপের সভাপতি পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জানান, কাজী এনায়েত হোসেন টিপু ও বাবুল সরকারের কমিটি অবৈধ। তারা দীর্ঘ দিন ধরে পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি করে আসছিল। স্বাস্থ্য ও  পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপনের নির্দেশে আমাদের বৈধ কমিটি এখন থেকে পরিবহন সেক্টরের কার্যক্রম পরিচালনা করছি।

চাঁদা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, তাদের সংগঠন কোনো চাঁদা আদায় করে না। কাজী এনায়েত হোসেন টিপু ও বাবুল সরকারের লোকজন আগের পরিবহন থেকে চাঁদা আদায় করতো বর্তমানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিবহন থেকে সব ধরনের চাঁদা আদায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক নাজমুছ সাদাত সেলিম জানান, মালিক শ্রমিকদের ব্যানারে ৫ দফা দাবি সম্বলিত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগকারীদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করা হবে।

ইত্তেফাক/নূহু