নদী ব্যবস্থাপনা আইন বাস্তবায়নে চাই সমন্বিত নীতি ও কাঠামো

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০১৭, ০০:১৫

নদী বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে বক্তারা ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা রক্ষার দাবি জানিয়ে বলেছেন, একমাত্র নদ যা বাংলাদেশের ৬০ থেকে ৭০ ভাগ পানি সরবরাহ করে। তবে উজানের দেশ চীন ও ভারতের এই নদের উপর বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে। নদী সম্পর্কিত কোনো সমন্বিত নীতি ও সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো না থাকায় নদী ব্যবস্থাপনা আইন বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বক্তারা ঢাকাসহ সারা দেশের নদ-নদী, জলাশয় রক্ষায় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

ইন্টারন্যাশনাল রিভারস, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), ব্লু প্লানেট ইনিশিয়েটিভ (বিপিআই) ও সলিডারিটি-এর যৌথ উদ্যোগে গতকাল বুধবার, জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার কথা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বাপার সহ-সভাপতি সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নদী কমিশনের সদস্য শারমীন মুরশিদ, বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন, ব্লু প্লানেট ইনিশিয়েটিভ (বিপিআই) এর নির্বাহী পরিচালক ও বাপার যুগ্ম-সম্পাদক শরীফ জামিল।

সুলতানা কামাল বলেন, নদীর সাথে মানুষের জীবন ও জীবিকার গভীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। দেশের মানুষের কাছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ নতুন কিছু নয়, তবে বর্তমানে এর অনিয়মিত এবং ধ্বংসাত্মক আবির্ভাব দেশের মানুষকে হতভম্ব ও বাস্তুচ্যুত করে তুলেছে। নদী ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে যারা রয়েছেন তারা তাদের কাজগুলো গুরুত্ব সহকারে করছেন না। ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় বসবাসরত মানুষকে রক্ষা করতে হলে ব্রহ্মপুত্রকে প্রবহমান রাখতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট চারটি দেশকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

শারমীন মুরশিদ বলেন, ব্রহ্মপুত্রের কাহিনীটি শুধু বাংলাদেশের নয়, এর সাথে জড়িত রয়েছে আরো ৪টি দেশ। যারা শাসন ব্যবস্থার সাথে সম্পৃক্ত তাদেরকে নদী ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আঞ্চলিকভাবে সমাধানের জন্য সচেতন ও উদ্যোগী হতে হবে। সিকিমে বসবাসরত যে মানুষগুলো পানি প্রাচুর্য নিয়ে বাস করত এখন তারা পানিশূন্য। ব্রহ্মপুত্র অববাহিকাকে রক্ষা করতে হলে ভিন্ন চারটি দেশের মানুষের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে হবে।

ডা. মো. আব্দুল মতিন বলেন, ব্রহ্মপুত্র বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নদ। এটি একমাত্র নদ যা বাংলাদেশের ৬০ থেকে ৭০ ভাগ পানি সরবরাহ করে। তবে উজানের দেশ চীন ও ভারতের এই নদীটির উপর বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে। নদী সম্পর্কিত কোনো সমন্বিত নীতি ও সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো না থাকায় নদী ব্যবস্থাপনা আইন বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তিনি জাতিসংঘ পানি প্রবাহ সনদ ১৯৯৭-এ অনুস্বাক্ষর করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্য দেশসমূহকে স্বাক্ষর করতে উত্সাহিত করার প্রচেষ্টা চালানোর অনুরোধ জানান।

শরীফ জামিল বলেন, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার বাংলাদেশ অংশে প্রধান চারটি নদ-নদী যেমন তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা এবং পুরাতন ব্রহ্মপুত্র পাড়ের মানুষকে আজ শুকনো মৌসুমে চরম পানিস্বল্পতা আর বর্ষা মৌসুমে অস্বাভাবিক বন্যার মুখোমুখি হতে হয়। সমগ্র ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার বাংলাদেশ অংশে খরা ও নদী ভাঙনের কবলে পড়ে বিপুল জনগোষ্ঠী উদ্বাস্তুতে পরিণত হচ্ছে। এই বাস্তবতায় চীন, ভুটান ও ভারত কর্তৃক একতরফা বাণিজ্যিক প্রকল্পসমূহ পুনর্মূল্যায়নে আঞ্চলিক সাংগঠনিক কাঠামো ও পারস্পরিক ন্যায্যতা নিশ্চিত করা যে মুহূর্তে আবশ্যক, সে মুহূর্তে যথাযথ জনসম্পৃক্ত যৌথ সমীক্ষা ব্যতিরেকে নৌ-চলাচলের নামে অপরিকল্পিত নদী খনন এবং আন্তঃনদী সংযোগ মেগা প্রকল্পের মতো উদ্যোগ গ্রহণ দুঃখজনক।

ইত্তেফাক/নূহু