কমিউনিটি পুলিশ সর্বদলীয় হোক : আইজিপি

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০১৭, ১৮:৩৮
 
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক বলেছেন, কমিউনিটি পুলিশ হলো একটি স্বেচ্ছাশ্রম। আমরা চাই এটি সর্বদলীয় হোক। কমিউনিটি পুলিশ কমিটিতে ভালো মানুষ আসুক। 
 
বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সদর দফতর সম্মেলন কক্ষে এসব কথা বলেন তিনি। আগামী শনিবার কমিউনিটি পুলিশিং ডে- এ উপলক্ষে পুলিশ সদর দফতরে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। 
 
আইজিপি একেএম শহীদুল হক বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা চালু আছে। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সুসম্পর্ক স্থাপন করাই কমিউনিটি পুলিশের লক্ষ্য। আমরা চাই, ব্যাপক সংখ্যক জনগণ যেন কমিউনিটি পুলিশের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। কমিউনিটি পুলিশে যারা অবদান রেখেছেন আগামীতে তাদেরকে পুরস্কৃত করা হবে।
 
কমিউনিটি পুলিশিং সরকারদলীয় হচ্ছে কী না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, আমরা চাই কমিউনিটি পুলিশ সর্বদলীয় হোক। কিন্তু কেউ যদি না আসে তাহলে তো কিছু করার নেই।
 
কমিউনিটি পুলিশের অনেকের বিরুদ্ধে অপরাধের সঙ্গে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে একেএম শহীদুল হক বলেন, এমন কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। যদি এমন অভিযোগ আসে তাহলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।
 
তিনি বলেন, অপরাধ একটি রোগ। এতে যে কেউ সংক্রমিত হতে পারে। যে কোনো কমিউনিটিতে যে কেউ অপরাধ করতে পারে। যেমন কক্সবাজারে কিছু গোয়েন্দা পুলিশ অপরাধ করে ধরা পড়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। অপরাধী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবেই।
 
প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সালে ময়মনসিংহে প্রথম পুলিশ জনগণের সহযোগিতায় অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল। ওই সময় ময়মনসিংহ শহরে সম্পত্তি সংশ্লিষ্ট অপরাধ, চুরি ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেজন্য তখন রাতে পেট্রোল ডিউটির জন্য টাউন ডিফেন্স পার্টি (টিডিপি) গঠন করা হয়। এই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য ছিল স্বল্প সময়ের জন্য কিছু অপরাধ দমনে পদক্ষেপ নেওয়া। তারই আদলে ২০০৭ সালে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজির তত্ত্বাবধানে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এই কার্যক্রম শুরু করেন। 
 
তারই ধারাবাহিকতায় কমিউনিটি পুলিশিংয়ের চলমান কার্যক্রমকে বাস্তবায়ন করতে দেশব্যাপী ৪০ হাজার ৯০৮টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটিতে ৯ লাখ ৫৮ হাজার ৪৬ জন সদস্য কাজ করছেন। ২০১৫ সাল থেকে ২০১৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত জমিজমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়েছে ৩৭ হাজার ৭২৩টি। এছাড়া, টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিরোধ ২২ হাজার ২১৫টি, ¯^ামী-স্ত্রীর বিরোধ ২৪ হাজার ৫৯৬টি, মারামারি সংক্রান্ত ৩৬ হাজার ৫৮টি, পারিবারিক ২৩ হাজার ৯৭৪টি ও অন্যান্য বিষয়ে ৪৪ হাজার ৪৭৯টি বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
 
২০১৪ সালে পুলিশ সদর দফতরের অরগানোগ্রামে ডিআইজি’র (অপারেশন্স) অধীনে একজন এআইজি’র তত্ত্বাবধানে পাবলিক সেফটি অ্যান্ড ক্রাইম প্রিভেনশন (পিএস অ্যান্ড সিপি) শাখার কার্যক্রম শুরু হয়। ওই উদ্যোগই বর্তমানে কমিউনিটি পুলিশিং নামে পরিচিত। বর্তমানে দেশের সব জেলাতেই কমিউনিটি পুলিশিং সেল রয়েছে এবং প্রতিটি থানায় রয়েছেন কমিউনিটি পুলিশিং অফিসার। এছাড়া, দেশের প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলায় কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি কার্যকর রয়েছে। সেসব কমিটিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তাসহ সমাজের সব স্তরের জনগণের অংশগ্রহণ রয়েছে। সারাদেশে পরিবহন সেক্টরেও কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। 
 
ইত্তেফাক/কেকে