কুমিল্লা ইপিজেডের আরএন স্পিনিং মিলস্ লিমিটেডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে পৃথক ২টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর ও কুমিল্লা ইপিজেডের জিএম হাফিজুর রহমান তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে আরএন স্পিনিং মিলস্ এর শ্রমিক আজাদ, বাপ্পী, জাহাঙ্গীরসহ অন্যান্য শ্রমিকরা জানান, প্রথমে মিলের এক্রিলিক সেকশনে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহুর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর কটন সেকশনে আগুন ধরে যায়। রাতভর ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের কর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। এতে আরএন স্পিনিং মিলটির উৎপাদন শাখার এক্রিলিক ও কটন সেকশন আগুনে পুড়ে গেলেও আগুনের হাত থেকে রক্ষা পায় প্রতিষ্ঠানটির দুইটি বড় গোডাউন ও পাওয়ার সেকশন।
মিলের প্রজেক্ট ম্যানেজার সাজেদ আবদুল্লাহ কোয়েল জানান, 'বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরুপন করা সম্ভব হয়নি। এতো ক্ষয়ক্ষতির পরও বুধবার শ্রমিকদের মার্চ মাসের ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা বেতন পরিশোধ করা হবে'।
আরও পড়ুন: আইনের স্বার্থেই তারেককে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা: ড. হাছান মাহমুদ
এদিকে কুমিল্লা ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক হাফিজুর রহমান জানান, 'সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রতিষ্ঠানটির প্রোডাকশন ফ্লোরে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং কাঁচামালগুলো কটন তুলা ও এক্রিলিক তুলা হওয়ায় দ্রুতগতিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের কাজ চলছে। এ ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে'।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর জানান, 'অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ হোসেন সিদ্দিককে আহবায়ক করে ৬ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে'।
উল্লেখ্য, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই মিলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এরপর দুপুর পর্যন্ত ধ্বংসস্তুপের কোথাও কোথাও থেমে থেমে আগুন জ¦লতে দেখা যায়।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
