বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং উন্নয়ন সমন্বয়ের চেয়ারপারসন ড. আতিউর রহমান বলেছেন, বিবিআইএন উপ-অঞ্চলের দেশগুলোর (বাংলাদেশ-ভূটান-ভারত-নেপাল) মধ্যে নদীপথে বাণিজ্য বাড়ানো গেলে তা সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। তবে এই বাণিজ্য বৃদ্ধির সুফল যেন নদীর আশেপাশে বসবাসকারী দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ বিশেষত চরের মানুষ পান সেটা আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।
বৃহস্পতিবার কলকাতায় নদীপথ বিষয়ক উপ-আঞ্চলিক সংলাপ অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন। সংলাপ অধিবেশনটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে কাটস ইন্টারন্যাশনাল, উন্নয়নসমন্বয়, রয়াল সোসাইটি ফর প্রোটেকশন অফ ন্যাচার, এবং সাউথ এশিয়া ওয়াচ অন ট্রেড, ইকোনমিকস এন্ড এনভায়রনমেন্ট।
সংলাপ অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- কলকাতায় নিযুক্ত ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার ব্রুসবাকনেল, কলকাতায় জাপান কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল মাসায়ুকিতাগা, ভারতে দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ সাগরপ্রাসাই, এবং ডিএফআইডি এশিয়া রিজিওনাল টিমের ক্লাইমেট এন্ড এনভায়রনমেন্ট এডভাইজর শান্তন মিত্রা। কাটসইন্টারন্যাশনালের নির্বাহি পরিচালক বিপুল চ্যাটার্জি সংলাপ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
ড. আতিউর বলেন, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটারট্রানজিট এন্ড ট্রেড এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আশা রসঞ্চার করেছে। তবে এক্ষেত্রে নদীপথের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল বিনিয়োগ, নদীপথগুলোর নাব্যতা বজায় রাখা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার মতো চ্যালেঞ্জগুলো ও আমাদের মাথায় রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারিখাতেরও এগিয়ে আসা দরকার।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের রেল অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ভারতের পক্ষ থেকে যে ঋণ দেয়া হয়েছে, নদীপথের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংরক্ষণের জন্যও একই ধরনের ঋণ সুবিধা দেয়া যেতে পারে।
বিবিআইএন উপ-অঞ্চলে নদীপথগুলোর যথাযথ ব্যবস্থাপনা এবং নদীপথে আন্তঃদেশীয় বাণিজ্যের প্রসার ঘটানোর জন্য দেশগুলোরমধ্যে সংলাপ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের উপরে গুরুত্বারোপ করেন ড. আতিউর রহমান।
ইত্তেফাক/ইউবি
