ঘুষ দিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সিভিল এভিয়েশনের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে ৮ প্রতিষ্ঠানের মালিককে নথিপত্রসহ তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সম্প্রতি তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নথিপত্রসহ আগামী ৫ ও ৬ নভেম্বর হাজির হতে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ন্যাশনাল ট্রেডার্সসহ ৯টি প্রতিষ্ঠানের মালিক-ব্যবসায়ী মো. আব্দুল হামিদ সিভিল এভিয়েশনের প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এম. মাকসুদুল ইসলামকে নির্দিষ্ট হারে ঘুষ দিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চলতি বছরের জুলাই মাসে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। তার ধারাবাহিকতায় গত ১৯ অক্টোবর সিভিল এভিয়েশনের প্রধান প্রকৌশলী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক থেকে পাঠানো নোটিশে ৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আগামী ৫ নভেম্বর মেসার্স চৌধুরী ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক মো. মাঈনুল ইসলাম চৌধুরী, মেসার্স এস আলম এন্ড সন্সের মালিক মো. ইকবাল হোসেন, মেসার্স ফেয়ার এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. আব্দুল আজিজ, মেসার্স প্রভাতী এন্টারপ্রাইজের মালিক মোস্তাফিজুর রহমান (সেগুন), মেসার্স নাইদ এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. আব্দুল মালেককে নথীপত্রসহ হাজির হতে বলা হয়েছে। অপরদিকে মেসার্স সগীর আহাম্মেদ এন্টারপ্রাইজের মালিক ছগির আহাম্মদ, মেসার্স নোমান এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. দেলোয়ার হোসেন ও মেসার্স ন্যাশনাল ট্রেডার্স এর মালিক মো. আবদুল হামিদকে আগামী ৬ নভেম্বরে হাজির হতে বলা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, গত ২৬ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানের মালিক বরাবর পাঠানো দুদক পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীল শিবলীর সই করা চিঠিতে সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেকর্ডপত্রসহ উল্লেখিত ব্যক্তিদের দুদকে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য প্রদানের জন্য বলা হয়েছে। চিঠিতে চাহিদাকৃত রেকর্ডপত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত আয়কর নথির ছায়ালিপি, বিভিন্ন বছরে অর্জিত আয় ও ব্যয়ের বিবরণ, নিজ এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব বিবরণী, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) হতে কোন কোন কাজের কার্যাদেশ পেয়েছেন এবং এর সাথে সম্পৃক্ত কি পরিমাণ অর্থ রয়েছে সে সংক্রান্ত তথ্যাদি।
ইত্তেফাক/এমআই
