কৃষি প্রচলনের ধারায় যুক্ত যে সকল নারীরা খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ করছে তাদের অধিকার রক্ষায় বেহাত হওয়া খাসজমি উদ্ধার করে তাদের মধ্যে বিতরণের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেছেন, হাওর, জলমহাল ইজারা দেয়ার নীতিমালা আরও নারীবান্ধব, প্রকৃতিবান্ধব ও জনবান্ধব করার জন্য সংস্কার প্রয়োজন। নারীর ভূমিসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদে অধিকার প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নিতে হবে।
শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘খাদ্য সার্বভৌমত্ব ও গ্রামীণ নারীর ভূমি অধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষে এসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এ্যান্ড ডেভলপমেন্ট (এএলআরডি) ও নিজেরা করি যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী এবং এএলআরডি’র চেয়ারপারসন খুশী কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এএলআরডি-র উপ-নির্বাহী পরিচালক রওশন জাহান মনি। আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ও রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশ (রিইব)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক বাঞ্ছিতা চাকমা, অধ্যাপক ড. আইনুন নাহার ও এএলআরডি-র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা।
অধ্যাপক বাঞ্ছিতা চাকমা বলেন, আদিবাসী নারীদের ভূমি অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রথাগত আইনের সংস্কার প্রয়োজন। পাহাড়ি সমাজে কঠোর পিতৃতান্ত্রিকতা বিরাজমান। ভূমি অধিকার প্রতিষ্ঠা হলে নারীরা আরও ক্ষমতায়িত হবে।
অধ্যাপক ড. আইনুন নাহার সার্বিকভাবে খাদ্য সার্বভৌমত্ব ও ভূমি মালিকানার সাথে ন্যায় বিচার বিষয়টিকে যুক্ত করে বলেছেন, প্রাকৃতিক সম্পদে প্রবেশাধিকারে, ভূমি মালিকানা প্রতিষ্ঠায় ন্যায় বিচার অনুপস্থিত। ধনী ব্যক্তিরা হাওর, জলাশয় লিজ নিচ্ছে। যাদের সামর্থ একটু কম তারা সাব-লিজ নিচ্ছে। আর যে সকল প্রকৃত মৎস্যজীবী তারা অর্থের অভাবে লিজই নিতে পারছে না। কৃষিতে বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বা বহুজাতিক কম্পানির প্রবেশ বীজ সংরক্ষণে নারীর লোকায়িত জ্ঞানকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
শামসুল হুদা বলেন, উৎপাদনের জন্য যে ভূমি দরকার সেখানে নারীর মালিকানা থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে নারীদের সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বেহাত হওয়া খাস জমি উদ্ধার করে ভূমিহীন নারীদের মধ্যে বণ্টন করার জন্য খাসজমি পুনরুদ্ধারের জন্য আইন করা দাবি করেন তিনি।
ইত্তেফাক/এমআই
