রাজধানী ঢাকার সাথে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যোগাযোগের অন্যতম পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি স্বল্পতা ও নদীতে নাব্যতা সংকটে যানবাহন পারাপারে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। শনিবার বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উভয় পাড়ে ৫শতাধিক ট্রাক পারের অপেক্ষায় আটকে ছিল। তবে, যাত্রীবাহী পরিবহনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার হওয়ায় দুর্ভোগ কিছুটা লাগব হয় বলে ঘাট কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন।
শনিবার দুপুরে পাটুরিয়া ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, ফেরি পারের জন্য আসা যাত্রীবাহী বাস-কোচ, প্রাইভেটকারের দীর্ঘ জট না থাকলেও পণ্যবাহী বিপুল সংখ্যক ট্রাক দাঁড়িয়ে রয়েছে। ঘাট এলাকায় যানজট কমাতে সংযোগ সড়কের আরিচামুখী রুটে পণ্যবাহী বেশকিছু ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ তা নিয়ন্ত্রণ করছে। আটকে থাকা ট্রাক শ্রমিকরা অভিযোগ করছেন, টাকা আদায়ের ধান্ধায় আমাদের আটকিয়ে রাখা হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশের চাহিদানুযায়ী অর্থ পরিশোধ করে অনেকেই ঘাটে যাচ্ছে।
সংযোগ সড়কে পণ্যবাহী ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখা প্রসঙ্গে ট্রাফিক পুলিশ ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন জানান, যানবাহন নিয়ন্ত্রণে রাখতে বরাবরের মতো এ পদ্ধতি অবলম্বল করা হচ্ছে। ঘাটের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই দাঁড় করিয়ে রাখা পণ্যবাহী যানবাহন ফেরি পারের জন্য ছেড়ে দেয়া হবে। ট্রাক শ্রমিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের বিষয় তিনি অস্বীকার করে বলেন, ট্রাফিক পুলিশের কেউ এধরণের কাজের সাথে জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পাটুরিয়া ঘাটে বিআইডব্লিউটিসির ফেরি মেরামতকারী ভাসমান কারখানা মধুমতির নির্বাহী প্রকৌশলী এনামুল হক অপু জানান, বর্তমানে বহরের ছোট-বড় ১৪টির মধ্যে একটি কেটাইপ ফেরি যান্ত্রিক ক্রুটির কারণে কারখানায় নোঙ্গর করা হয়েছে। এর বাহিরে এ রুটের আরোও ৫টি ফেরি একই কারণে নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে মেরামতে রয়েছে। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ফেরিগুলো সংস্কার কাজ শেষে বহরে যোগ হবে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
