ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি সেক্টরের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিউরো-ডেভেলপমেন্ট প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ও সম্ভাবনা নিয়ে শনিবার রাজধানীতে একটি সেমিনারে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও)- পরিচালনায় ক্যানাডা সরকারের অর্থায়নে বাংলাদেশ স্কিলস ফর প্রডাকটিভিটি (বি-সেপ) প্রকল্পের সহায়তায় ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিল ও পিএফডিএ- ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার ট্রাস্টের আয়োজনে ‘ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি সেক্টরে নিউরো-ডেভেলপমেন্ট প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে।
মূল উদ্দেশ্য ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি সেক্টরে নিউরো-ডেভেলপমেন্ট প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আরও নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করা।
সেমিনারে প্রধান অতিথি পর্যটন ও বেসামরিক বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানে অন্তর্ভুক্তিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি সেক্টরে নিউরো-ডেভেলপমেন্ট প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাত এবং এখানে বিভিন্ন পর্যায়ে কাজের সম্ভাবনা রয়েছে।’
সেমিনারে বাংলাদেশ ও ভারতের ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি সেক্টরে নিউরো-ডেভেলপমেন্ট প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে নানা অভিজ্ঞতা, বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা হয়।
বিশেষ অতিথি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জিল্লার রহমান বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি চাকরি দাতাদের জন্য পুরোপুরি দাতব্য কর্মসূচি নয়। এ প্রক্রিয়ায় তারা নিষ্ঠাবান কর্মীও পাবে, যারা কাজের ক্ষেত্রে কর্মঠ। তাদের সুযোগ করে দেওয়া আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।’
অটিজম স্পেকট্রাম ডিজওর্ডার মূলত স্নায়ুর পর্যাপ্ত বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়াকে বোঝায়। নিউরো-ডেভেলপমেন্টে প্রতিবন্ধকতার কারণে সৃষ্ট এ সমস্যা সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশে ২ লাখ ৫৫ হাজার নিউরো-ডেভেলপমেন্ট প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন।
আইএলও ও বি-সেপ প্রকল্পের চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার কিশোর কুমার সিংহ সেমিনারে দেওয়া বক্তব্যে ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি সেক্টরকে ধন্যবাদ জানান নিউরো-ডেভেলপমেন্ট প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ার জন্য। তিনি বলেন, অন্যান্য বড় প্রতিষ্ঠানের ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানে এগিয়ে আসা উচিত।
ইত্তেফাক/কেআই
