নওগাঁ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের একটি অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে ছাত্রলীগ। এসময় বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. বেল্লাল হোসেনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
তারা হলেন- শহরের বিহারী কলোনি মহল্লার সিরাজের ছেলে ও কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজ হোসেন, ডিগ্রি মোড় এলাকার আমিরের ছেলে স্বপন, আফজাল হোসেনের ছেলে রনি ও রেজাউল হোসেনে ছেলে রেদওয়ান।
কলেজের বাংলা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১টা থেকে কলেজের বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় তলায় বদলিজনিত কারণে সহযোগী অধ্যাপক শহীদুল্লাহকে বিদায় এবং বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. বেল্লাল হোসেনের বরণ অনুষ্ঠান চলছিল। এসময় কলেজের অধ্যক্ষ এএইচএমএ ছালেক, উপাধ্যক্ষ ড. মোস্তাফিজারসহ অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। দুপুর আড়াইটার দিকে অনুষ্ঠান শেষের দিকে রিয়াজ হোসেন, স্বপন, রনি ও রেদওয়ানসহ ১০/১৫জন ছাত্রলীগ নামধারী ছাত্ররা এসে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ফুলের টব, বেঞ্চসহ অন্যান্য জিনিস ভাঙচুর করে।
এ সময় প্রফেসর ড. বেল্লাল হোসেনকে কলার ধরে মারপিট করা হয়। এছাড়া অন্যান্য শিক্ষকরাও আহত হন। এ সময় বাংলা বিভাগের অনার্স ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং রোভার স্কাউটের জেলা সিনিয়ির রোভার প্রতিনিধি আরমান হোসেনকে ছাত্র শিবির আখ্যায়িত করে বেদম মারপিট করা হয়। খবর পেয়ে চারজনকে আটক করে পুলিশ।
প্রফেসর ড. বেল্লাল হোসেন বলেন, কলেজের বাংলা বিভাগে ঘরোয়া পরিবেশে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কয়েকদিন আগেও তারা আমার কাছে একটি অনুষ্ঠানের নাম করে চাঁদা চেয়েছিল। তাদের চাঁদা দেইনি। এছাড়া আমাদের ঘরোয়া অনুষ্ঠানে তাদের জানানো হয়নি কেন। এসব বিষয় নিয়ে তারা আমাকে মারপিট করে।
কলেজের অধ্যক্ষ এএইচএমএ ছালেক বলেন, তারা ছাত্রলীগ করে বলে আমি শুনেছি। ছাত্রলীগ যেখানে দেশে সুনাম ছড়াচ্ছে। আর এখানে একজন শিক্ষকের গায়ে ছাত্রলীগ হাত উঠিয়েছে। এরপর আর কি হতে পারে। আমরা কলেজে পড়াশুনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চাই।
নওগাঁ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বিমান কুমার রায় বলেন, কলেজ ছাত্রলীগের কোন কমিটি নাই। তবে তারা ছাত্রলীগের নাম ভাঙাতে পারে। যদি ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় তাদের বিরুদ্ধে সাংগাঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নওগাঁ সদর থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, কলেজ এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
