‘‌কূটনৈতিক তৎপরতায় রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান সম্ভব’

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৭, ১৭:৪৪
 
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সামর্থ্য রাখে। এখন পর্যন্ত সরকার বিষয়টি যেভাবে মোকাবেলা করছে তা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বুধবার ‘বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) বাংলাদেশে অবস্থানজনিত সমস্যা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’ বিষয়ক সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশকালে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ কথা বলেন।
 
তিনি বলেন, ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে মিয়ানমারের ওপর সমন্বিত কূটনৈতিক প্রভাব এবং সুনির্দিষ্ট চাপ প্রয়োগ করতে হবে। রোহিঙ্গা সমস্যাটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। বাংলাদেশ মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের সাময়িক আশ্রয় দিলেও আন্তর্জাতিকভাবেই এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে এ সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ সামর্থ্য রাখে।
 
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের ইতিবাচক অবস্থান, মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে এতো বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সুশৃংখলভাবে আশ্রয় দেয়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।
 
তিনি বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ মানবিকতার প্রশংসা করছেন বিশ্ব নেতারা।
 
টিআইবি’র সমীক্ষায় বলা হয়, রোহিঙ্গা সংকটটি পুরো পার্বত্য এলাকার স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে আসতে পারে। এই সংকটের সুযোগ নিয়ে ওই এলাকার বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনসমূহের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের জোগসাজশ প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি রয়েছে।
 
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মিয়ানমারের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বের কারণেই রোহিঙ্গাদের ওপর এ জাতিগত নিধন। এটি একটি গণহত্যা। ভারত ও চীন বাংলাদেশের ভালো বন্ধু। এ দুটি দেশকে বোঝানোর দায়িত্ব বাংলাদেশের। মিয়ানমারের ওপর প্রয়োজনে সামরিকসহ সকল প্রকার নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও দাবি রাখে।
 
তিনি বলেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা হলে ক্যাম্পগুলোতে নানাবিদ অপরাধ এবং সহিংসতা বৃদ্ধি পাবে, যা ইতোমধ্যেই লক্ষণীয়। এ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল নানাবিধ অপরাধে রোহিঙ্গাদের জড়িত করার ঝুঁকি রয়েছে।
 
এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে সাংগঠনিক ক্ষমতা কাঠামো তৈরি হচ্ছে, যা শুরু থেকে নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হিসেবে পরিগণিত হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বাসস
 
ইত্তেফাক/কেকে