ডুয়েট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৭, ২২:১২
 
গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট)  শিক্ষার্থীরা সেমিস্টার পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে সড়ক অবরোধ, ক্যাম্পাসে ব্যাপক ভাংচুর করেছে। মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার মধ্যে ছাত্রদের এবং বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বুধবার বিকেলে ডুয়েটের একডেমিক কাউন্সিলের ৫৭তম সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
 
ডুয়েট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার থেকে বিশ্বদ্যিালয়ের সেমিস্টার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবার পূর্ব নির্ধারিত তারিখ ছিল। ওই পরীক্ষা পেছানোর জন্য মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলা উদ্দীনের নিকট দাবি জানান। ভিসি তাদের দাবি না মানলে রাতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে ডুয়েটের সামনে গাজীপুর-শিমুলতলী সড়কে অবস্থান নেন এবং টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে সড়ক অবরোধ করেন। এক পর্যায়ে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ক্যম্পাসে ফিরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভিসির অফিস, বাসভবন, শিক্ষকদের বাসভবনের দরজা-জানালা কাঁচ এবং ভিসি ও শিক্ষকদের ব্যবহৃত একটি জিপ, ছয়টি প্রাইভেটকার ও সাতটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শিক্ষার্থীদের নিক্ষিপ্ত ইটের আঘাতে কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
IMG0
এদিকে ঘটনার সাথে দায়ী শিক্ষার্থীদের বিচারের দাবিতে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখেন শিক্ষকরা। পরে দুপুরে ডুয়েটের একডেমিক কাউন্সিলের এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা, বুধবার বিকেলের মধ্যে ছাত্রদের এবং বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 
 
ছাত্রলীগের ডুয়েট শাখার সভিপতি মো. নাসির উদ্দিন জানান, ডুয়েটে আড়াই হাজারের অধিক শিক্ষার্থী রয়েছেন। এদের মধ্যে তৃতীয় ও ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকেন। প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বাইরে বিভিন্ন মেসে এবং বাসা বাড়িতে থেকে ক্লাসে অংশ নেন। মূলত প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরাই পরীক্ষা পেছানো দাবি করে আসছিলেন।
 
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আলাউদ্দিন জানান,  ৩০-৩৫জন শিক্ষার্থী ২ নভেম্বরের পরীক্ষা পেছানোর দাবি জানায়। পরে তাদের দাবি না মেনে চলে যেতে বলেন তিনি। পরে তারা সন্ধ্যায় পাশের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা টায়ারে অগ্নিসংযোগ ও রাস্তা অবরোধ করলে কয়েক শিক্ষক তাদের নিবৃত করতে যান। তারা তা না শুনে বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে থাকে এবং ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এসময় তাদের ইটপাটকেলে কয়েক শিক্ষক ও কর্মকর্তাসহ ৫-৬জন আহত হন। কিন্তু তাদের কথা না শুনে রাস্তায় রাত ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা মুখোশ পড়ে প্রধান ফটক ভেঙ্গে ক্যাম্পাসে ঢুকে লাইট নিভিয়ে তাণ্ডব চালায় এবং ভিসির অফিস, বাসভবন, ক্যাম্পাসে থাকা সিসি ক্যামেরা, ভিসির গাড়িসহ ৬-৭টি গাড়ি এবং লাইব্রেরি ভবনের নীচতলায় ভাংচুর করে। পরে পুলিশ গিয়ে রাত ১১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি