ফুলবাড়ীয়া উপজেলা সদরের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি দুর্গন্ধময় ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। টিনশেডের জরাজীর্ণ তিন রুমবিশিষ্ট উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির দরজা-জানালা ভেঙে গেছে অনেক আগেই। ভিতরে স্যাঁেস্যঁতে অবস্থা। মশা-মাছির ব্যাপক উপদ্রব। হাসপাতালের সামনের খোলা মাঠে মল-মূত্রের দুর্গন্ধযুক্ত পচা পানি থৈ থৈ করে একটু বৃষ্টি হলেই। আর উত্তর পাশে পচা পানি জমে ছোটখাট একটি ডোবায় পরিণত হয়ে আছে। পরিত্যক্ত পায়খানার মল-মূত্র স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দরজা পর্যন্ত প্রায় স্তূপ হয়ে উঠেছে। দুর্গন্ধযুক্ত পানি জমে থাকায় উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করা যায় না। হাসপাতালের দক্ষিণ পাশ দিয়ে দেড় ফুটের একটি রাস্তা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে হয় চিকিত্সকসহ রোগীদের। প্রশাসনের নাকের ডগায় উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির চারপাশে নোংরা দুর্গন্ধময় পরিবেশ থাকার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন মাথাব্যথা নেই।
ফুলবাড়ীয়া উপজেলা সদরের উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ‘ফুলবাড়ীয়া ডিসপেন্সারী’ নামে পরিচিত। একজন মেডিক্যাল অফিসার, একজন সহকারী মেডিক্যাল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট কর্মরত রয়েছেন এখানে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রতিদিন প্রায় ৫০/৭০ জন রোগীর চিকিত্সাসেবা দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার সকালে পৌর সদরের আমতলি মহল্লার শেফালি বেগম, চান্দের বাজার মহল্লার হেলালউদ্দিন ও দুদু মিয়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেন চিকিত্সাসেবা নিতে। এসময় তারা বলেন, সরকারি হাসপাতালের পরিবেশ এমন নোংরা ও দুর্গন্ধময় হয় কোথাও কোনোদিন দেখিনি। এখানে চিকিত্সা নিতে আসলে আরো বেশি অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মেডিক্যাল অফিসার ডা. শাহ মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আশেপাশের দুর্গন্ধযুক্ত পচা পানি ও মল-মূত্রের গন্ধে রোগীদের চিকিত্সা সেবা দেয়া আমাদেরও ব্যাপক সমস্যা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সদরের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে খোলা মাঠটিতে মল-মূত্রের দুর্গন্ধযুক্ত পানি জমে থাকার কারণেই এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
ইত্তেফাক/নূহু
